ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭ তম জন্মবার্ষিকীতে বর্ণপরিচয় স্রষ্টার জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ২৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরচন্দ্রের জন্মদিন হলেও বাংলা ক্যালেন্ডারে তারিখ মেনে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরে পালিত হল বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বাংলার অন্যতম সমাজ সংস্কারকের মূর্তিতে মাল্যদানের পাশাপাশি রাজ্যব্যাপী শিক্ষার শিল্প উন্নয়নের বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মুখ থেকে শোনা গেল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শেষ করা নিয়ে বড় ঘোষণাও। পাশাপাশি, বীরসিংহ গ্রামে পর্যটকদের জন্য নৈশযাপনের ব্যবস্থা করার উপর জোর দেন তিনি।বিদ্যাসাগরের গ্রামে স্ট্রিট লাইট বসানো এবং ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি পার্ক নির্মাণের ঘোষণাও করেন। নারী শিক্ষার প্রসারের অগ্রদূত বিদ্যাসাগরের লেখা বই কেনার জন্যও সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: এসআরএফটিআই হামলাকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, সিট গঠন নবান্নের
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যাসাগরের কাজের কথা স্মরণ করে বাল্যবিবাহ রোধ করা নিয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি শিল্পায়ন নিয়েও বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন আজি রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা শহরে আসছেন যেখানে আগামী বিনিয়োগ নিয়ে সদর্থক আলোচনা হতে চলেছে। বিগত সরকারকে নিশানা করে শিক্ষা-স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাংলার পিছিয়ে পড়ার জন্য তাদের দায়ী করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে বিজেপি সরকারের লক্ষ্য, রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং পূর্ববর্তী ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটানো। এদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারও চায় যে এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক এবং সেই উদ্দেশ্যেই প্রশাসন জোর কদমে মাঠে নামছে। ইতিমধ্যেই সাংসদ দেবের MP Dev) সঙ্গে তাঁর বিশদে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পাশাপাশি এও বলেন, আগামী বছর জুনের মধ্যেই ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর সিংহভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ টাকা রাজ্য দেবে।এ বছরই ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের মানুষ যে আশা নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে তা পূরণ করার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, বিদ্যাসাগরের জন্মভিতে বীরসিংহ গ্রামের পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় সোলার আলো (Solar Light) লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্যের সব লাইব্রেরিতে বিদ্যাসাগরের বই বেশি করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু। স্থানীয় বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন তৈরির কথা জানান তিনি। পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালের ইড়পালা পর্যন্ত রেল লাইনের জমি আটকে রেখেছিল আগের সরকার। নতুন সরকারের আমলে সেই জমির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘাটাল ও সংলগ্ন প্লাবন-কবলিত এলাকাগুলির দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা মেটাতে এবং বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। জল জমার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে রাজ্য সরকারের একাধিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে সমাজ সংস্কারের সার্বিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার যে বদ্ধপরিকর তাও স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
















