আয়বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগে বিহারের এক আমলা দম্পতির বাড়িতে ভিজিল্যান্স টিমের হানায় উদ্ধার বিপুল নগদ, গয়না, দামি ঘড়ি এবং সম্পত্তির নথি। পাটনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাপ্লাই) রবীন্দ্র কুমার দিবাকর এবং তাঁর স্ত্রী দানাপুরের জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কুমারী সুইটির পাটনা ও বেগুসরাইয়ের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় বিহার ভিজিল্যান্স ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৯.৯৮ লক্ষ টাকা নগদ, প্রায় ৫২.৬০ লক্ষ টাকার সোনা, রুপো ও হিরের গয়না এবং ৬.০১ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪৮টি হাতঘড়ি উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। নগদ গুনতে বিশেষ মেশিনও আনা হয়েছিল। পাটনার বাড়ি থেকে প্রায় ৭০.৫৩ লক্ষ টাকা, আর বেগুসরাইয়ের বাড়ি থেকে প্রায় ৯.৪৪ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।
শুধু নগদ বা গয়নাই নয়—তল্লাশিতে উঠে এসেছে একাধিক সম্পত্তি ও বিনিয়োগের নথিও। ভিজিল্যান্সের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দম্পতির নামে সাতটি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। দলিল অনুযায়ী এগুলির মোট মূল্য প্রায় ২.৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাটনার দানাপুরে দুটি ফ্ল্যাট এবং ফুলওয়ারিশরিফ ও বেগুসরাইয়ে একাধিক জমি রয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ১.০৬ কোটি টাকার আয়বহির্ভূত সম্পত্তি। ভিজিল্যান্সের নথি অনুযায়ী, এই সম্পত্তির পরিমাণ তাঁদের জানা আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশের সমান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলআইসি বিনিয়োগ এবং এসবিআইয়ের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে; অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে খবর। তবে তদন্ত এখনও চলছে। উদ্ধার হওয়া সম্পদ ও নথির বিস্তারিত যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাব স্পষ্ট নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ভিজিল্যান্স সূত্রে খবর।
















