টানা বর্ষণ আর রূপনারায়ণের জোয়ারের জোড়া ফলায় ফের বিধ্বস্ত হুগলির খানাকুল। নদী উপচে জল ঢোকায় প্লাবিত হয়েছে খানাকুলের দুই ব্লকের কয়েকশো গ্রাম। সব মিলিয়ে গৃহহীন কয়েক হাজার পরিবার, আর জলবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার প্রায় এক লক্ষ মানুষ। বিঘার পর বিঘা ধানের খেত জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত কৃষকদের। জলের তীব্র স্রোতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য মাটির বাড়ি।
বন্যার জলে চারদিক ডুবে থাকায় দুর্গত এলাকাগুলিতে তীব্র হয়ে উঠেছে পানীয় জল, শুকনো খাবার ও ওষুধের সঙ্কট। অনেক এলাকা এখনও কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খানাকুল ২ নম্বর ব্লকের মারোখানা-পনশিটুলি পিচ রাস্তার ওপর দিয়ে বর্তমানে বইছে বুকসমান জল। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিঙি নৌকো।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। কাউকে বুকসমান জল ভেঙে, আবার কাউকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকোয় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হচ্ছে। বইখাতা ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র উৎকণ্ঠা। প্রশাসনের তরফে দ্রুত জল নামানো এবং পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন জলবন্দি ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
















