অন্নপূর্ণা যোজনায় (Annapurna Yojana) আবেদন থেকে শুরু করে একাধিক সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা। এবার স্থানীয় শিবির থেকেই মিলবে প্রয়োজনীয় সহায়তা। ২ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত ব্লকে তিন দিনের বিশেষ ‘সেবা সেতু অভিযান’। কলকাতা পুর এলাকার দু’টি ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি করে শিবির করা হবে। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদনপত্র, প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরিষেবা দেওয়ার জন্য সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষকে এই শিবির থেকেই আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

এই কর্মসূচিতে একাধিক প্রকল্পকে একই পরিসরে আনা হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শিক্ষাশ্রী, জয় জোহার, পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড এবং পিএম কিষান স্বনিধির মতো প্রকল্পের পরিষেবাও পাওয়া যাবে। মোট ২০টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে এই শিবিরের আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে এতদিন কোনও প্রকল্পে আবেদন করা হয়ে না থাকলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিরা নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

শিবিরে শুধু ফর্ম দেওয়ার ব্যবস্থা নয়, আবেদন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহায়তাও করবেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী ও আধিকারিকরা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে পরিষেবা। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কয়েকটি ব্যাঙ্কের কাউন্টারও শিবিরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতায় ওয়ার্ডের ভিত্তিতে শিবিরের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি দু’টি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে কেন্দ্র থাকছে। অন্যদিকে কলকাতার বাইরে রাজ্যের সমস্ত ব্লকেও একই সময়ে এই কর্মসূচি চলবে। এর ফলে শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই স্থানীয় স্তরে সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিন দিনের এই কর্মসূচিকে ঘিরে ভিড় সামলানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিতে কতটা ভিড় হয়, সেদিকে নজর থাকছে। পুরকর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, এই প্রকল্পে আবেদন করতে বহু মানুষ শিবিরে আসতে পারেন। তাই কাউন্টারগুলিতে যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং আবেদন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চলে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকছে পুরসভা।

ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য কলকাতার প্রতিটি শিবিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে লালবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কলকাতা পুরসভা। পাশাপাশি কর্মসূচির খবর আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় বিধায়কদেরও সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। পুরভোটের আগে এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, যোগ্য উপভোক্তারা যাতে প্রকল্পগুলির বিষয়ে জানতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন করার সুযোগ পান।