‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের রাজ্যে বেহাল নারী নিরাপত্তা। দুই মহিলাকে গণধর্ষণের (GangRape) ঘটনায় নাম জড়াল চার বিজেপি কর্মীর (BJP Workers)। ঘটনাটি ঘটেছে, পটাশপুর (Patashpur) থানা এলাকায়। টনিয়াবিলা গ্রামের ফাঁকা একটি বাড়িতে ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন নেত্রী ও তাঁর সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূ। সেই সুযোগে শনিবার রাতে ভূপতিনগর থানার নাড়ুয়াবিলা এলাকা থেকে কয়েকজন ওই বাড়িতে যায়।

আরও পড়ুন: ভোটপ্রচারে লজেন্স কুড়োতে গিয়ে মৃত শিশুর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে দুই মহিলাকে ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে তাদেরকে গণধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফিরতেই পরদিন সকালে পুত্রবধূ কোনওরকমে একজনকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান। তারপরেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িতে এসে দু’জনকে উদ্ধার করে মুগবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আক্রান্ত প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী থানায় গিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। অভিযোগে নাম জড়ায় বিজেপি নেতা বিমল গায়েন, শংকর ভুঁইয়া, পিন্টু জানা ও তাপস মণ্ডলের। 

পটাশপুর থানার ওসি কর্তার সিং জানিয়েছেন, “ঘটনার বিষয়ে এফআইআর হয়েছে এবং অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে ওড়িশার দিকে চলে যেতে পারে।” ঘটনার পর স্থানীয় স্তরে ক্ষোভও ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রথম দিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। পরে সোমবার রাতে স্থানীয় মহিলারা হাতে মশাল নিয়ে টনিয়াবিলা গ্রামে প্রতিবাদ মিছিল করেন। সেই মিছিলের পরই ঘটনাটি সামনে আসে। 

 

এই ঘটনায় সরব হয়েছে তৃণমূলও। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে বলা হয়, "বিজেপির চারজন কর্মী দুই মহিলাকে বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গণধর্ষণ করেছে। আর এই ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে? খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলায়। অথচ—এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই। কোনো প্রতিবাদ নেই। জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমেও কোনো তোলপাড় নেই। সবচেয়ে বড় কথা, মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। তিনি কি এই ধর্ষকদের আড়াল করছেন কারণ তারাবিজেপি-এর কর্মী? বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন!"