রেজিনগরের (Rejinagar) উপনির্বাচনী প্রচারে গিয়ে উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবাকেই মূল হাতিয়ার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল শিল্প, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি না করে উন্নয়ন ও রাষ্ট্রবাদকে সামনে রাখার বার্তাও দেন তিনি।

রেজিনগরকে ফলতার ধাঁচে একটি ‘মডেল বিধানসভা’ হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো রেজিনগরকেও তিনি নিজের বিধানসভা এলাকা হিসেবে দেখবেন। এলাকার মানুষের জন্য নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি পরিষেবা যাতে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছয়, সেই ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যোগ্য সংখ্যালঘু মহিলারাও অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সরকারি সুবিধা পাবেন। আয়ুষ্মান যোজনা-সহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় বিভাজন থাকবে না বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

রেজিনগরের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এলাকার বাইরে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে আগামী দু’বছরের মধ্যে বাংলায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী ছ’মাসে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে স্থানীয় স্তরেই কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিল্পায়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রেজিনগরে শিল্পতালুক গড়ে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করার কাজ হয়েছে। তাঁর দাবি, দেড় বছরের মধ্যে এলাকায় কারখানা চালু করার লক্ষ্যে এগোনো হবে। শিল্প এলে স্থানীয় শ্রমিকদের বাইরে পাড়ি না দিয়ে রেজিনগরেই কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সব মিলিয়ে রেজিনগরের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার সামনে এসেছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি। তাঁর আবেদন, ভোটাররা যেন ধর্মীয় বিভাজনের বদলে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেন। নির্বাচনে সমর্থন পেলে রেজিনগরকে নিজের দায়িত্বে একটি মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিই প্রচারের অন্যতম প্রধান বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।