ক্লাসরুমের মধ্যেই বই ছেঁড়া নিয়ে সামান্য বচসা। তার জেরে শিক্ষকের কাছে নালিশ করায় সহপাঠীকে খুনের ছক কষে নবম শ্রেণির এক পড়ুয়া। শুধু তা-ই নয়, গলার ঠিক কোথায় ছুরি চালালে নিশ্চিত মৃত্যু হতে পারে, তা নিয়ে ইন্টারনেটে রীতিমতো খোঁজখবর চালিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এ বার হামলাকারী ছাত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯ ধারায় খুনের চেষ্টার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ।

বৃহস্পতিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের নির্দেশের পরেই গড়িয়াহাট থানার পুলিশ এই পদক্ষেপ করে। লালবাজার সূত্রের খবর, এফআইআরের প্রতিলিপি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হচ্ছে। অভিযুক্ত ছাত্র নাবালক হওয়ায় প্রচলিত আইনে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তবে তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির হতে হবে। বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বুধবারই অবশ্য অভিযুক্ত ছাত্রকে স্কুলে ডেকে বেশ কিছুক্ষণ কাউন্সেলিং করানো হয়েছিল।

অন্য দিকে, জখম পড়ুয়াটি এখনও ই এম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও মানসিক আঘাত বেশ গভীর। হাসপাতালে গিয়ে ওই আক্রান্ত ছাত্রের বয়ান রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার ঠিক কী ঘটেছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে চেয়েছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। নবম শ্রেণির দুই সহপাঠীর মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে গোলমাল বাধে। অভিযোগ, অভিযুক্ত পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল আক্রান্ত ছাত্র। সেই আক্রোশেই অভিযুক্ত সহপাঠী এমন হাড়হিম কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তবে মাত্র নবম শ্রেণিতে পড়া এক কিশোর কী ভাবে এমন ঠান্ডা মাথায় ইন্টারনেটে খুনের পদ্ধতি খুঁজে বের করল এবং স্কুলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঢুকে সহপাঠীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল, তা ভেবে শিউরে উঠছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনেকেই। অল্পবয়সিদের এমন অপরাধপ্রবণ মানসিকতা নিয়ে শিক্ষা মহলেও তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।