অনামী দলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে কোটি কোটি টাকা, কিন্তু তা নিয়ে কোনও তদন্ত হয়নি। আর তৃণমূলের অ্যাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ভোটের পরে উচ্চ পদস্থ সরকারি পদ দেওয়া হয়েছে। 

পরিসংখ্যান দিয়ে অভিষেক বলেন, "প্রশাসনিক নিয়োগের ধারাবাহিকতাও প্রশ্ন তুলছে। নতুন সরকার ৯ তারিখে শপথ নেয়। ১১ তারিখে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে মুখ্যসচিব করা হয়, অথচ তখনও নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন বাকি ছিল। ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিককে পরে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়। একই সময়ে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই নিয়োগগুলির ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কারণ যাঁরা নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের নির্বাচনের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।" 
আরও পড়ুন: ‘ভারতরত্ন’ কেন, জ্ঞানেশকে আরও বড় পুরস্কার দিন: ভোট লুঠের পরিসংখ্যান দিয়ে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের

শুধু এনসিপিআই-এর মতো অনামী রাজনৈতিক দলই নয়, সারা দেশে এরকম অনেক নাম না জানা দলের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা অনুদান জমা হয়েছে- কে দিয়েছে, কীভাবে এই দল টাকা পেল- প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। বলেন, "আমি রাজনৈতিক অর্থের বিষয়টিও সামনে আনতে চাই। প্রকাশ্যে থাকা তথ্য অনুযায়ী, “ভারতীয় রাষ্ট্রীয় জনতা দল” নামে একটি দল, যারা গুজরাতে প্রায় ০.০১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বলে রিপোর্ট রয়েছে, তারা প্রায় ১,১৪৩ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। “গরিব কল্যাণ পার্টি” ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী দিয়েছিল বলে জানা যায়। গুজরাতে তারা প্রায় ১,৭০০ ভোট পেয়েছিল এবং প্রায় ২০৭ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল বলে রিপোর্ট রয়েছে। আরেকটি দল, “আম জনমত পার্টি”, প্রায় ৬২০ কোটি টাকা পেয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। আমরা জানতে চাই, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির বিরুদ্ধে যেভাবে তদন্তকারী সংস্থাগুলি তৎপর হয়েছে, একই তৎপরতায় কি এই লেনদেনগুলিও খতিয়ে দেখা হবে?"