রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির সংক্রমণ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে রাজ্যে নতুন করে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২,৬০০ জন। চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭,৩২০। সংক্রমণ রুখতে সচেতনতামূলক প্রচার এবং নজরদারির উপর জোর দিলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তৎপরতা বাড়িয়েছে নবান্ন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে ১২টি অতি-সংবেদনশীল বা ‘হটস্পট’ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রচার অভিযানের জন্য ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে প্রতিটি জেলার স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও জমা জলের বিরুদ্ধে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের নিরিখে এখনও উদ্বেগে রাখছে কলকাতা পুরসভা এলাকা। বিশেষ করে পুরসভার ২, ৫, ১৬, ৭৭ এবং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বাধিক ডেঙ্গি আক্রান্তের হদিস মিলেছে। পাশের হাওড়া পুরসভাতেও সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; সেখানে ১৫, ২১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৪৪ জন।
মহানগরীর পাশাপাশি জেলাগুলির পরিস্থিতিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকে ১০৩ জন, নওদায় ৫১ জন এবং লালগোলায় ৩২ জনের ডেঙ্গি ধরা পড়েছে। নদিয়ার তেহট্ট-১ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪। এ ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-১ ও ২ ব্লকে ৬৮ জনের বেশি, হুগলির পোলবা ব্লকে ৩৮ এবং আসানসোল পুরসভা এলাকায় ৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে স্বাস্থ্য, পুলিশ ও পুর বিষয়ক দফতর-সহ ১৬টি দফতরের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এলাকায় মশার লার্ভা নিধন, জমা জল নিষ্কাশন এবং নজরদারি আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
















