নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে বেলেঘাটায় বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি তাড়া করে হামলার ঘটনায় খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে অপহরণের চেষ্টার ধারা দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, নারকেলডাঙায় থানা থেকে বেরিয়ে জানালেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য মানবাধিকার কমিশনকে ধন্যবাদ জানান কুণাল। 

চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে কুণালের গাড়িতে দুবার হামলা হয়, প্রথমে উত্তরপাড়া ও পরে নিজের কেন্দ্র বেলেঘাটায় (Beleghata)। লাঠি, শাবল, হাতুড়ি, ইট, পাথর নিয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণ। গাড়ি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ। বেলেঘাটায় কুণালের গাড়ি তাড়া করে রীতিমতো রিভলবার উচিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। শেষে গাড়ি নিয়ে থানায় ঢুকে প্রাণে বাঁচেন তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। শুধু তাই নয়, কুণালের বয়ান পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়নি এতদিন। মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানান বেলেঘাটার বিধায়ক। চেয়ারম্যান প্রাক্তন বিচারপতি আইপি মুখোপাধ্যায় (I P Mukharjee) সাফ জানান, পুলিশ (Police) ঠিকঠাক তদন্ত না করলে প্রয়োজনে অন্য রাজ্যের পুলিশকে দিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেবে কমিশন। প্রকৃতপক্ষে কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ (Police) কর্তৃপক্ষ না আসা যেমন দুর্ভাগ্যজনক, পাশাপাশি এর মধ্যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।  

এর পরেই বয়ান দিতে কুণালকে ডাকে নারকেলডাঙা থানা। এদিন সেখানে উপস্থিত হন কুণাল। ছিলেন বেলেঘাটের থানার আধিকারিকরাও। প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে থানা থেকে বেরিয়ে বিধায়ক জানান, পুলিশ যে এফআইআর দায়ের করেছে সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪০ (১) ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত খুনের উদ্দেশ্যে কাউকে অপহরণ করার চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ হিসেবে দেখা হয়। 
আরও পড়ুন: I.N.D.I.A-তে যোগ দিতে চায় ঋত তৃণমূল! বাড়াবাড়ি দালালি বিজেপির, আখরুজ্জামানকে আক্রমণ কুণালের

তবে, এখন কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তদন্ত চলেছে। দেখা হচ্ছে সিসিটিভি-র ফুটেজ। কুণাল জানান, "FIR-এ কয়েকটি নাম আছে। তাদের একজনের রাজনৈতিক পরিচয়ও লেখা আছে। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে পুলিশকে নোটিশ পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাকি দেখা যাক। এখন আগে দরকার গ্রেফতার।"