মুখ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগে দেশজুড়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। বুধবার, দিল্লিতে বৈঠক করে I.N.D.I.A.। বৃহস্পতিবার, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ইতিমধ্যেই জ্ঞানেশকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে NCPI। সেই দলেই নাম লিখিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সাংসদরা। সেই ঘটনাটা তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক বলেন, "ভোটচুরির জন্য ‘ভারতরত্ন’ কেন, জ্ঞানেশকে আরও বড় পুরস্কার দিন"। একই সঙ্গে তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, বাংলায় প্রায় ১৫০টি বিধানসভা আসনে কারচুপি হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান অভিষেক।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, "গত বছর আমি যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং পুরো বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলাম, তখন বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলাম, আমাদের মতে বাংলায় কীভাবে বেছে বেছে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। গত ছয়মাস, আটমাস, দশমাস, এমনকী এক বছর ধরে বিরোধী দলগুলি যে প্রশ্নগুলি তুলে আসছিল, এখন সেই একই প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারও তুলছেন। এটা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ এখন আর শুধু তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, আপ, আরজেডি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দল এই প্রশ্ন তুলছে না।"
তৃণমূল সুপ্রিমোর কথার রেশ টেনেই অভিষেক বলেন, "বাংলায় প্রায় ১৫০টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যেখানে এসডিটির মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়া, "লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি" বা বিচারাধীন থাকার কারণে আটকে থাকা মামলাগুলি মিলিয়ে যে সংখ্যক নাম বাদ বা প্রভাবিত হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, এই ১৫০টি আসন কার্যত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি মোট আসন থেকে এই আসনগুলি বাদ দিয়ে দেখুন, তাহলে কী থাকে। আমি নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) চ্যালেঞ্জ করছি, আমাদের ভুল প্রমাণ করুন। সমস্ত নথি প্রকাশ্যে আনুন এবং স্বাধীনভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করার সুযোগ দিন।"
আরও পড়ুন: নির্বাচন প্রক্রিয়া হাইজ্যাক করে BJP-কে জিতিয়েছেন সীমা খান্না-ভ্যানিশ কুমার: তথ্য দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার
বাংলার এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়ে অভিষেক বলেন, "রাজরহাট-গোপালপুর, ভবানীপুর, সাতগাছিয়া, অথবা ওই তালিকার যে কোনও একটি আসন নিন। দুপুর থেকে রাত ৮টা, সাড়ে ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করুন। আমাদের দেখাতেই হবে না। সাংবাদিকদের ডাকুন, নিজেদের অফিসে তাঁদের সামনে ফুটেজ চালান এবং গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কী হয়েছিল, তাঁদের দেখতে দিন। যদি প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হয়ে থাকে, তাহলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়।"
এর পরে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, "সাতগাছিয়া আমার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা আসন। গণনার এক পর্যায়ে সেখানে তৃণমূল প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে পরে আমাদের গণনা এজেন্টদের হুমকি ও মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আমি নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করছি, বিকেল ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করুন এবং সবাইকে দেখতে দিন কী হয়েছিল। যে আসনে তৃণমূল প্রায় ১২ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল, শেষ পর্যন্ত সেখানে বিজেপি প্রায় ৪০০ ভোটে জিতল। আর সেই কারণেই আমরা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করছি।"
আলিপুর জেলা পরিষদের ভবনে আগুন লেগে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক। বলেন, "নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় এক মাস পর, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আগুনে প্রায় ৪,০০০টি ব্যালট ইউনিট, ৪,০০০টি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৪,০০০টি ভিভিপ্যাট মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের প্রশ্ন হল, কীভাবে একটি আগুন মাঝের তলাগুলিকে এড়িয়ে সরাসরি সেই জায়গায় পৌঁছে গেল, যেখানে নির্বাচনী সরঞ্জাম রাখা ছিল? এই ঘটনার তিন মাস হয়ে গেল। ঘটনাটি যদি গাফিলতির কারণেও হয়ে থাকে, তাহলেও কার দায় সেটা ঠিক করতে হবে। কারণ একাধিক বিধানসভা আসন নিয়ে নির্বাচনী মামলা চলছিল, যেখানে আদালতের প্রয়োজনে ব্যালট ইউনিট, কন্ট্রোল ইউনিট, ভিভিপ্যাট এবং অন্যান্য নির্বাচনী নথি নিরাপদে সংরক্ষণ করার কথা ছিল।"
















