মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি। নিজের প্রাণের কথা না ভেবে শতাধিক যাত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Pilot Smith Macchar)। গুরুতর আহত অবস্থাতেও বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করিয়েছেন তিনি। এই সাহসিকতার এখন তাঁকে বাস্তবে ‘হিরো’ পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে আহত পাইলটের চলছে চিকিৎসা। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশের বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পুজো ও প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে।
বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে (Somnath Temple) বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা হয়। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরেও (Kasha Vishwanath Temple) তাঁর আরোগ্য কামনায় পুজো হয়েছে। ২১ জন সাধু মিলে রুদ্রাভিষেক (Rudrabhishek) করেন। পাশাপাশি ১১ জন মিলে এক লক্ষ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করেন বলে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রার্থনা, বাবা বিশ্বনাথ যেন পাইলট স্মিত মচ্ছরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন এবং দীর্ঘায়ু দেন। যাতে তিনি ভবিষ্যতেও দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারেন।
ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের সাহসিকতায় গর্বিত বিশ্ব। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন একাধিক আন্তর্জাতিক নেতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। চালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অভিযোগ, ককপিটের ভিতর তাঁর উপর আচমকা হামলা চালান সহ-পাইলট। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। প্রায় দু’মিনিটে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নীচে নেমে আসে বিমানটি। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলট এবং বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু উড়ানটি নিরাপদে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে, তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ইতিমধ্যেই হামলাকারী সহ-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর সৌদির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
















