হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তার মধ্যেই শুক্রবার ভিডিও কল করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ফোনের ওপারে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে প্রথমে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না স্মিত। কথা বলতে গিয়েই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখে জল চলে আসে। স্মিতের প্রশংসা করে মোদি বলেন, “এ বার দেশ গর্ব করে বলতে পারবে যে, ভারতীয়রা জীবন কেড়ে নেয় না, বরং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের বাঁচায়।”
আরও পড়ুন: বিপদসীমার বাইরে পাইলট স্মিত, স্থানান্তরিত আবুধাবির হাসপাতালে
'‘আমি কখনও ভাবিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব’’—প্রধানমন্ত্রীকে বলেন স্মিত। তাঁর কথা শুনে মোদি বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে কথা বলার সময় আপনি আবেগপ্রবণ হবেন না তো কোথায় হবেন!’’ এরপর স্মিত জানান, "মোদি তাঁর সবচেয়ে বড় আদর্শ। আপনি আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এ ভাবে ফোন করে আমায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য গর্ব অনুভব করছি। আমি অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম যে, উঠে দাঁড়িয়ে কিছু করতে হবে।”
এরপর সেই ভয়ংকর সময়ের কথা বলতে গিয়ে স্মিত জানান, তখন তিনি নিজেই গুরুতর আহত ছিলেন। শরীরের যন্ত্রণা সত্ত্বেও মনে হচ্ছিল, তাঁকে উঠতেই হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমি পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝেছিলাম, আমাকে উঠতেই হবে। না হলে আমি মারা যাব।’’ সেই সময় নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্য মানুষগুলির কথাও তাঁর মাথায় ছিল।
বিপদের সেই মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে সামলেছিলেন, তাও জানান স্মিত। তিনি বলেন, বিপদে পড়লে হনুমান চল্লিশা পাঠ করেন। ওই দিনও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি হনুমান চল্লিশা পড়ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, ভগবান হনুমানই তাঁকে সাহস দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বিমান চালানোর অভিজ্ঞতাও তখন কাজে লাগে। তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেনের ভূমিকা পালন করছি। আমি জানতাম, একটা শেষ চেষ্টা করতে হবে। কোনও রকমে ককপিটের দরজাটা খুলে দিই। ফলে সবাই ভিতরে ঢুকতে পেরেছিলেন।”
আরও পড়ুন: বহরমপুরে কাপড়ের দোকানে আগুন, আতঙ্ক এলাকায়
কথার মধ্যে স্মিতের মায়ের কথাও ওঠে। মোদি জানান, স্মিতের স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের সঙ্গেও আগে কথা বলেছিলেন মোদি। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
ফোনের শেষে স্মিতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের ঘরে বসে তখনও আবেগ সামলানোর চেষ্টা করছেন স্মিত। ভয়ংকর সেই ঘটনার পর শরীরের কষ্টের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই ফোন তাঁর কাছে যেন বড় ভরসা হয়ে এল। আর তাই শেষ মুহূর্তেও মোদিকে নিজের মনের কথাটা জানাতে ভোলেননি তিনি ‘‘আপনি আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ।’’
















