যোগীরাজ্যে প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের অদূরে রাস্তার উপরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হলেন এক আদিবাসী তরুণী। এই চরম অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগে এক নার্স ও চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করল প্রশাসন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।

প্রশাসন সূত্রের খবর, মহারাজ চেত সিংহ সরকারি জেলা হাসপাতালে সোমবার ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ২০ বছর বয়সি সন্তানসম্ভবা রানি বনবাসীকে। পরিবারের অভিযোগ, তিনি দলিত মুসহর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি জানতে পেরেই চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁকে স্পর্শ করতে পর্যন্ত অস্বীকার করেন এবং সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, প্রসূতি রক্তাল্পতায় ভুগছেন এবং রক্তের ব্যবস্থা নেই। যদিও রানির ভাই নিজে রক্ত দিতে রাজি ছিলেন, তা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার রাতে সঙ্গী মহিলাদের সহায়তায় রাস্তার ধারেই সন্তান প্রসব করেন ওই তরুণী। এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই জেলাশাসক শৈলেশ কুমারের নির্দেশে ডেপুটি সিএমও রাম আশিস সরোজ, ওমপ্রকাশ শুক্লা এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ শালিনী পাঠককে নিয়ে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমও) সন্তোষ কুমার চক জানান, তদন্তে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি প্রসব কক্ষটি পর্যন্ত তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট (সিএমএস) নিজে হাসপাতালে না গিয়ে ফোনে পুরো বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সিএমএস অজয় কুমার তিওয়ারি এবং সোমবার কর্তব্যরত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নীলিমা ধবনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের বেতন স্থগিত করা হয়েছে আর এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মুকেশ প্রজাপতির। মঙ্গলবার রাতে দায়িত্বে থাকা চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক পঙ্কজ কুমারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কর্তব্যরত নার্স নীলম মৌর্যকে বদলি করা হয়েছে অওরাই কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সরকারি হাসপাতালে এমন জাতপাত সংক্রান্ত বৈষম্য ও চিকিৎসার গাফিলতির ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুরক্ষা ও সংবেদনশীলতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।