পাহাড়ের বুক চিরে নামছে ধস—আর সেই ধসের কয়েক সেকেন্ডের ছবি ফের সামনে এনে দিল উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের ভঙ্গুর বাস্তবতাকে। পাহাড় যেন আচমকাই হুড়মুড়িয়ে নেমে এল নীচে! উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার ভয়াবহ ভিডিয়ো ঘিরে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাহাড়ের ঢাল থেকে আলগা মাটি, বড় বড় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ প্রবল গতিতে নীচে নেমে আসতে দেখা যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে ঘন ধুলোর মেঘে। (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করে নি বিশ্ব বাংলা সংবাদ)

সেই ভয়াবহ মুহূর্তের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। কুমায়ুনের ঠিক কোন এলাকায় এই ধস নেমেছে, ঘটনাটিতে কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা কিংবা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এই মুহূর্তে সেই নিয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। এবার প্রশ্ন উঠছে কেন বাড়ছে ধসের আশঙ্কা? ভূমিধস পাহাড়ি এলাকায় নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটিতে জল ঢুকে ঢালের স্থিতিশীলতা কমতে পারে। তার সঙ্গে দুর্বল ভূগঠন, খাড়া পাহাড়ি ঢাল এবং রাস্তা বা নির্মাণকাজের ফলে ঢালের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন—সব মিলিয়ে ধসের আশঙ্কা বাড়ে।উত্তরাখণ্ডের সাম্প্রতিক আবহাওয়াতেও দেখা গিয়েছে দ্রুত পরিবর্তন। গত সপ্তাহে রাজ্যের নীচু ও উপত্যকা এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত হয়েছিল। সেপ্টেম্বরেও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে একাধিক জেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে পিথোরাগড়-তনকপুর মহাসড়কের কিছু অংশেও যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির অবনতিতে তীর্থযাত্রাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, এই পরিস্থিতির পিছনে শুধু একটি কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না। প্রবল বা অস্বাভাবিক বৃষ্টি, পাহাড়ের ভূপ্রকৃতিগত দুর্বলতা এবং মানুষের নির্মাণকাজ—একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করলে পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, সামনে ফের আবহাওয়ার চোখরাঙানি। উত্তরাখণ্ডের আবহাওয়া নিয়ে মৌসম ভবন জানিয়েছে ৬ ও ৭ অক্টোবর বজ্রপাত-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। কুমায়ুনের উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি, বাগেশ্বর, নৈনিতাল, আলমোড়া ও পিথোরাগড়-সহ একাধিক এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে নজরদারি।