মুখ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই আবহেই এসআইআর (SIR) নিয়ে নিজেদের আগের অবস্থান থেকে বেশ কিছুটা সরে এল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সাধারণ ভোটারদের হয়রানি কমানোর যুক্তি দেখিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লাগাতার চাপ এবং বিক্ষোভের আবহেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন: IND vs WI: ৩ ব্যাটসম্যানের শতরান, ভারতের বিরুদ্ধে রানের নয়া রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের

বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যের গরমিল কিংবা ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) থাকার কারণে যাঁদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে শুনানির প্রক্রিয়ায় বদল ঘটানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বুথ লেভেল অফিসাররাই ভোটারের বাড়িতে যাবেন। সংগৃহীত নথি ইসিআই-নেটে  আপলোড করার দায়িত্বও থাকবে তাঁদেরই।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি NCPI-এর!

ফলে এই ধরনের ভোটারদের নথি যাচাইয়ের জন্য আর ইআরও বা এইআরও দফতরে গিয়ে শুনানিতে হাজির হতে হবে না। কমিশন জানিয়েছে, একান্ত প্রয়োজন হলে শুনানি নেওয়া হলেও তা অনলাইনে অথবা ভোটারের পক্ষে সুবিধাজনক কোনও যোগাযোগ মাধ্যমে করা যেতে পারে। কোনও কারণে ভোটার নিজে উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও সেই শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।

এসআইআর ঘিরে প্রান্তিক এবং দরিদ্র মানুষের সমস্যার কথাও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়। দিনমজুর, গৃহহীন এবং রাত্রীনিবাসে থাকা মানুষের সুবিধার জন্য জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের হেল্প ডেস্ক ও বিশেষ শিবির বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে তাঁদের বারবার দফতরে ছুটতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, যে রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই এসআইআর শেষ হয়ে গিয়েছে, সেখানেও ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ যাওয়া যোগ্য ভোটারদের পাশাপাশি যাঁরা প্রথমবার ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে থাকা ডিক্লারেশন ফর্ম নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, এসআইআর চলাকালীন সময়েই কেবল ওই ফর্ম ব্যবহার করা যাবে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া আন্দোলনের মধ্যেই কমিশনের এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আবহে কমিশনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও নতুন নিয়মে ভোটারদের হয়রানি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তবু চলতি বিতর্ক এবং ক্ষোভ এখানেই থামবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।