বিহারে (Bihar) কি পরপর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিই এখন নতুন আতঙ্কের কারণ? একের পর এক জেলা থেকে তরুণী ও কিশোরীদের হেনস্থা এবং মারধরের অভিযোগ সামনে আসায় সেই প্রশ্নই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কখনও ঘুরতে গিয়ে, কখনও নির্জন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগে বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সাম্প্রতিক সংযোজন গয়া (Gaya)।

রাজ্যের একাধিক জায়গায় পরপর এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার মধ্যেই এ বার গয়ার শেরাঘাঁটি এলাকায় এক কিশোর-কিশোরীকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। মহুয়াজি গ্রামের কাছে পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। অভিযোগ, কয়েক জন যুবক তাঁদের আটকে রেখে মারধর করেন। তাঁদের বাইকের চাবি কেড়ে নেওয়া থেকে শুরু করে টায়ার ফুটো করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘক্ষণ তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। 

ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আরও একটি কারণে। অভিযোগ, ওই কিশোর-কিশোরীকে হেনস্থার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছেন গয়ার সিনিয়র পুলিশ সুপার সুশীল কুমার (Gaya Senior Superintendent of Police Sushil Kumar)।

কিন্তু গয়ার ঘটনা কি শুধুই একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলার সমস্যা? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্ন তুলছে। এর আগে জমুইয়ে এক ছাত্রীকে হেনস্থা এবং তাঁর বন্ধুকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তার পর সমস্তীপুর ও বাঁকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। একের পর এক ঘটনায় আক্রান্তদের নিরাপত্তার পাশাপাশি অভিযুক্তদের এমন আচরণের পিছনে কী পরিস্থিতি কাজ করছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এবং নীতি পুলিশের দৌরাত্ব বেড়ে চলেছে। 

জমুইয়ের ঘটনার পর বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল সম্রাট চৌধরীর সরকার (Samrat Chowdhury Sarkar)। সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন নতুন জায়গা থেকে অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের উপর চাপ আরও বেড়েছে। প্রতিটি ঘটনায় গ্রেফতারি ও তদন্তের পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

গয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে একের পর এক জেলা থেকে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিহারে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার, তদন্তের গণ্ডি পেরিয়ে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে।