বাইরে বোর্ড—‘ডে-কেয়ার সেন্টার, শীঘ্রই খুলছে’। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সেই জায়গা থেকেই আসছিল তীব্র দুর্গন্ধ। দিনের পর দিন গন্ধ বাড়তে থাকায় সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। শেষমেশ পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মুম্বইয়ের মালাডে এমন এক ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কিন্তু গোটা ঘটনার পেছনে যখন রয়েছে বাবার প্রতি মেয়ের গভীর টান, তখন বিষয়টির অনেকগুলো দিক বিবেচনার আওতায় চলে আসে।
দরজা খুলতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। মালাড ইস্টের কুরার ভিলেজের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক বৃদ্ধের দেহ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ব্যক্তি ৭৮ বছরের এক প্রৌঢ়। ২০২২ সালের জুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।চিকিৎসকের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুটি স্বাভাবিক বলেই প্রাথমিকভাবে জানা যায়। কিন্তু বাবার মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি তাঁর মেয়ে। বাবাকে সবসময় নিজের কাছেই রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই শেষকৃত্য না করে দেহ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। দেহ সংরক্ষণের জন্য বিদেশে থাকা একটি সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাবার দেহ সংরক্ষণের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এমনকী ভবিষ্যতে দেহটি বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তিনি ভাবনাচিন্তা করেছিলেন।
এদিকে, যে সম্পত্তিতে ওই কেন্দ্রটি ছিল, সেটিতে পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পর পুলিশ সেখানে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। সম্পত্তির মালিক ও ভাড়াটেদের দাবি, ভিতরে দেহ রাখা ছিল—এমন তথ্য তাঁদের জানা ছিল না। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর, এই ঘটনায় ওই মহিলা আইনজীবীও নিয়োগ করেছেন। বাবার দেহের সঙ্গে ঠিক কী করা হবে, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দেহটি সৎকার করা হবে, নাকি অন্য কোনও আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে কোনও অপরাধমূলক হস্তক্ষেপের প্রমাণ মেলেনি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
















