মহারাষ্ট্রের থানেতে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র স্থানীয় নেতা প্রদীপ পুরণেকার ওরফে বালাকে গুলি করে খুনের অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে মানপাড়া, মনোরমানগর ও সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, কাপুরবাওড়ি থানা এলাকার ঘোডবন্দর রোডের কাছে নিজের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আক্রান্ত হন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ৯টা নাগাদ অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা প্রদীপের উপর হামলা চালায়। প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয়, এরপর পরপর দু’রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রদীপকে ঘোডবন্দর রোডের কাছে ইনফিনিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রদীপ পুরণেকার ছিলেন থানেতে শিবসেনা (UBT)-র বিভাগপ্রধান। স্থানীয় স্তরে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানপাড়া ও মনোরমানগর এলাকায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
কেন খুন? রাজনৈতিক শত্রুতা, নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ?—এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ আপাতত একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রদীপের সক্রিয়তার কথাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন এবং পুলিশের অনুমতি না পাওয়া নিয়ে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সঙ্গে এই হামলার কোনও যোগ রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলার পর থেকেই আততায়ীদের সন্ধানে ঠাণে জুড়ে নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীরা কোন পথে পালিয়েছে, সেই রুট চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। থানে থেকে বাইরের এলাকায় যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, পরবর্তী তদন্তে হামলাকারীর সংখ্যা নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসছে। একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানানো হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাকে খুন—এই ঘটনায় থানের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে শিবসেনা (UBT)-র নেতৃত্ব।
















