সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ হাটাও অভিযান শুরু হল। ইন্ডিয়া জোটের কার্যত সব নেতা বৈঠকে ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সে ছিলেন উদ্ভব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) এবং হেমন্ত সোরেন। অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) আসতে না পারলেও তার বার্তা স্পষ্ট ভাবে ইন্ডিয়া জোটকে শুধু দিয়েছেন তা নয় ট্যুইট করেও জানিয়ে দিয়েছেন। কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে (Mallikarjun Kharge)। জানান বদল ডালো কমিশন। এই লক্ষে সমস্ত রাজনৈতিক দল তাঁদের মতামতে জানান এবং পরামর্শ দেন। সকলেই মনে করছেন যে কমিশন আসলে বিজেপির (BJP) হাতের কাঠপুতুল। খড়্গে বলেন জ্ঞানেশ কুমারকে আসলে সামনে দেখা যাচ্ছে, ভোট চুরির খেলা টা খেলছেন মোদি এবং অমিত শাহ।  

রণকৌশল সাজাতে ছ দফা কর্মসূচি আপাতত নির্দিষ্ট করেছে ইন্ডিয়া।  
১. ২- ৮ অক্টোবর গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন। এই কর্মসূচিতে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল ছাড়াও যারা গণতন্ত্র এবং সংবিধানে বিশ্বাস করেন এবং দেশকে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে চান সেই সমস্ত ছাত্র, যুব, মহিলা, এনজিও সমস্ত সংস্থাকে সামিল হতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশের প্রত্যেকটি জেলায় জেলা শাসকের দফতরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি। মানুষকে জানানো হবে কেন আমরা নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তন চাইছি। 

২. ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী দলের সাংসদরা মিছিল করে যাবেন নির্বাচন কমিশনে। খড়্গে জানান, আজই যাওয়ার কথা হয়েছিল কিন্তু বহু সাংসদ দিল্লির বাইরে থাকায় দিনটি পাল্টানো হয়েছে। যে কোনও দলের সাংসদই এই কর্মসূচিতে আসতে পারেন। যারা বিশ্বাস করেন দেশের গণতন্ত্র এই কমিশনের হাতে সুরক্ষিত নয়। 

৩. বিরোধী দলের নেতৃত্ব রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চাইবেন। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সময় চাওয়া হবে। রাষ্ট্রপতিকে বলা হবে এই ভোটচুরির সরকার এবং তাঁদের দোসর কমিশন আসলে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করেছে এঁদের এক মুহূর্ত ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

৪। জনসভা করবেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। ৫ টি বড় জনসভা করবে ইন্ডিয়ার নেতৃত্ব। কবে কোথায় জনসভা হবে তা দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রথম জনসভাটি দিল্লিতে হবে। এই জনবিরোধী সরকারের মুখোশ খুলে দিতে এই সভাগুলি করা হবে। 

৫. বিরোধী দলনেতারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ জানাবে যে SIR এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত যত মামলা আছে সেইগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। তার কারণ বিরোধী নেতারা চান মানুষ ন্যায় এবং অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হন।
 
৬. সবচেয়ে গুরুত্বপর্ণ বিষয় হল বিরোধী নেতারা এইদিনের বৈঠকে সর্বসম্মত ভাবে এক মত হয়েছেন যে ইভিএম এর কারণেই ভোট লুঠ এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চিত্রনাট্য তৈরি হচ্ছে, তাই ব্যালটে ভোট করার ব্যাপারেও সকলে সহমত হয়েছেন।