‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন কমিশনে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের স্বার্থ চরিতার্থ করছেন’, এই অভিযোগ তুলে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানালেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। বুধবার ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের এক শীর্ষ বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে একযোগে দেশজোড়া গণআন্দোলনে নামছে বিরোধী দলগুলি।

বৈঠক শেষে এম এ বেবি জানান, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদপত্রের এক অনুসন্ধানী সাংবাদিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মের এক বিস্ফোরক সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে কার্যত হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া বাধ্যতামূলক। তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া বাকি দু’জন সদস্য (অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা) একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই মতামতকে চরম তাচ্ছিল্যের সাথে দিনের পর দিন উপেক্ষা করে গেছেন। তিনি নিজের মর্জি চাপিয়ে এমন সব সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন, যা কেন্দ্রের আরএসএস-নিয়ন্ত্রিত বিজেপি সরকারের নব্য-ফ্যাসিবাদী স্বার্থকেই সরাসরি সুবিধা পাইয়ে দেয়।

সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদকের স্পষ্ট মন্তব্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থাকলে এই তথ্যফাঁসের পরেই তাঁর স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল। এই পরিস্থিতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের এই স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এক বিশাল গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বামেদের অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই প্রতিরোধ কেবল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিক সমাজ, অসরকারি সংস্থা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং জোটের বাইরে থাকা ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে। এম এ বেবির মতে, বিরোধী ঐক্যের নিরিখে এটি একটি ঐতিহাসিক ও মাইলফলক সিদ্ধান্ত। দেশের সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে রক্ষা করার এই ডাকে দেশের সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় রাজপথে নেমে শামিল হবেন বলেই তিনি আশাপ্রকাশ করেন।