পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে (Jagannatha Temple Puri) বুধবার সন্ধে থাকছে না সাধারণ দর্শনের সুযোগ। সন্ধে ৬টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ মন্দিরের দরজা। তবে এর পিছনে কোনও প্রশাসনিক কারণ নেই। মন্দিরের প্রাচীন রীতি মেনেই এই সময়টুকু বন্ধ রাখা হবে দর্শন। গোপনে পালিত হবে ‘বনকালাগি’ (Banakalagi Niti)।

আরও পড়ুন: সহপাঠীর সঙ্গে বচসায় ছুরি নিয়ে হামলা! সাউথ পয়েন্টে তীব্র চাঞ্চল্য

জগন্নাথদেবের মুখমণ্ডলের সাজ ফের নতুন করে তৈরি করাই এই আচারের মূল উদ্দেশ্য। স্নানযাত্রার সময় ১০৮ ঘড়া জলে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। দুধ, মধু-সহ নানা উপকরণও সেই স্নানে ব্যবহার করা হয়। এই স্নানের পর দেবতারা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে বিশ্বাস। একই সঙ্গে বিগ্রহের গায়ের রংও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাঁদের নতুন করে রং ও সাজে ফিরিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন: কারও নাম নেননি কুণাল, হামলায় সুদীপের নাম জড়িয়ে ন্যারেটিভ তৈরি করছে বিজেপি! বিস্ফোরক নয়না

এই বিশেষ শৃঙ্গারই ‘বনকালাগি’। ‘শ্রীমুখ শৃঙ্গার’ নামে পরিচিত এই রীতিতে মূলত দেবতাদের মুখমণ্ডলকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়। জগন্নাথদেবকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখেন ভক্তরা। তাই তাঁর অসুস্থতার পর সেবা করা এবং ফের তাঁকে সজ্জিত করে তোলা হয়। 

এই সাজে ব্যবহার করা হয় প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি চারটি প্রধান রং, সাদা, লাল, হলুদ ও কালো। শাঁখ থেকে তৈরি হয় সাদা রং। হরিতাল থেকে হলুদ এবং হিঙ্গুল থেকে লাল রং প্রস্তুত করা হয়। রংগুলিরও রয়েছে আলাদা প্রতীকী ব্যাখ্যা। সাদা পবিত্রতার, লাল জীবনশক্তির, হলুদ সমৃদ্ধি ও জ্ঞানের এবং কালো অনন্তকাল ও পরম সত্যের প্রতীক।

বনকালাগির কাজও সবার জন্য নয়। নির্দিষ্ট কয়েকজন সেবায়েতই এই দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের বলা হয় ‘দত্ত মহাপাত্র’। এই সময় গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতিও তাঁদেরই থাকে। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার শ্রীমুখের রং ও শৃঙ্গার সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। তাই ওই সময় মন্দিরের দর্শন বন্ধ রাখা হয়।

রীতি শেষ হলে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রত্নবিছানায় রাখা হয়। সিংহাসনে স্থান দেওয়া হয় সুদর্শনকে। এরপর ফের শুরু হয় দর্শন। নতুন সাজে দেবতাদের ‘নবযৌবন’ রূপ দেখার সুযোগ পান ভক্তরা। স্নানযাত্রার পর এই দর্শন তাই পুরীর জগন্নাথদেবের বার্ষিক আচারপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।