জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পরে এবার সীমা খান্নার (Seema Khanna) বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (TMC MP Mahua Moitra)। দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় (Parlament Street PS) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের ডিরেক্টর জেনারেলের (IT)  বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করা যাবে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার আধিকারিকেরা। এমনটাই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। 

আরও পড়ুন: মমতা তৃণমূলের ৪ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় হস্তক্ষেপে সুপ্রিম-না! বহাল হাই কোর্টের নির্দেশই

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, “নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) এবং বুথ স্তরের আধিকারিকদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকার সফ্‌টওয়্যারের ‘ব্যাক এন্ড’-এ কারসাজি করা হয়েছে। এর মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন জ্ঞানেশ কুমার এবং সীমা খন্না। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে এফআইআর দায়ের করা হবে কি না, তা জানাতে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।" সেইসঙ্গে বিষয়টির অগ্রগতি জানতে ৬ অক্টোবর ফের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসার পর সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসে। সেখানে ভোটার তালিকা তৈরির তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয়করণ নিয়ে তাঁদের প্রশ্নের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ইআরওনেট’ ব্যবহৃত হত। পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবস্থার সঙ্গে ‘ইসিআইনেট’ যুক্ত হয়। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া বা পুনর্বহালের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের ক্ষমতা হ্রাস হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়েও আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন সান্ধু বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই বিতর্কে বিশেষ ভাবে সামনে এসেছে গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের বিষয়টি। সেইসময় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল তথ্যগত অসঙ্গতি, মানে পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম বা বয়সের অমিল থাকা ভোটারদের কারণ জানিয়ে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। পরবর্তী শুনানিতে গোয়ার সংশ্লিষ্ট ইআরও-রা তাঁদের যোগ্য বলে বিবেচনা করেন।  কিন্তু সফ্ট‌ওয়্যারে সেই রায় লেখার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তাই গোয়ার  সিইও-র দফতর সে রাজ্যের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীকে এবং সীমা খান্নাকে একাধিকবার চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। যাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাদের নাম নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও উত্তর আসেনি। আর তাতেই বাদ পড়ে যায় ৯৭ জন ভোটারের নাম। এই প্রসঙ্গটিও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন মহুয়া মৈত্র।

 

এই নিয়ে সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সীমা খান্না বিজেপির একজন আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) আধিকারিক। তিনি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম সিল করে দিয়েছিলেন। আর তাতেই নাম বাদ যায় ২২ লক্ষ।” এরপরেই কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেলের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৭ ডিসেম্বর এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “বুথ স্তরের আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লাগলেও কী ভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। কোন সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করে সেই বিশ্লেষণ হয়েছিল এবং কারা তা করেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই সীমা খান্নার নাম উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক।” এর পর ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর সীমা খান্নাকে নিশানা করেন মহুয়াও। তাঁর অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সফ্‌টওয়্যারের ‘ব্যাক এন্ড’ ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় হেরফের করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এ বার সরাসরি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন তিনি। শুধু সীমা নন, এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও একই থানায় অভিযোগ করেছিলেন মহুয়া। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তদন্তের দাবি জানান তিনি। তবে তখন পুলিশ জানিয়েছিল, মহুয়ার দাবি অনুযায়ী সরাসরি এফআইআর দায়ের করা সম্ভব নয়। এ বার সীমা খান্নার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মহুয়া মৈত্র।