একদিকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পরিবেশ দূষণ আটকাতে হবে, অন্যদিকে উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকেও কম গুরুত্ব দিলে চলবে না। প্রাক পুজো মরশুমে এবার বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত মনে করছে, উৎসবের সময় বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত নয়। সে ক্ষেত্রেই মধ্যপন্থার মাধ্যমে দুই দিক রক্ষা করার ভাবনা চিন্তা প্রয়োজন।

দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং অন্যান্য পুজো কিংবা উৎসবে বাজি একেবারেই পোড়ানো যাবে না সেই রকম সিদ্ধান্তে উপনীত হতে নারাজ সুপ্রিম আদালত। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে পরিবেশ রক্ষা করা দরকার। কোনভাবেই সেটা অবহেলা করতে দেওয়া হবে না। আবার মাথায় রাখতে হবে বাজি পোড়ানো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। তবে হ্যাঁ এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। দেশের শীর্ষ সদালতের ২ বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, বাজির উপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে। আবার বাজি পোড়ানোর ফলে যাতে পরিবেশ বা অসুস্থ কিংবা প্রবীণদের কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। তাই আপাতত ডিভিশন বেঞ্চ মনে করছে যদি নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে মানুষ তার আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেও পারবেন আবার সেটা প্রকৃতি ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা সমস্যার হবে না। 

কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সবুজ বাজি বা ‘নেক্সট-জেনারেশন জয়েন্ট গ্রিন ক্র্যাকার্স’ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে শব্দ সীমা লঙ্ঘন না করা এবং গ্যাস নির্গমন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি সব মানদন্ড মেনে ওই বাজি প্রস্তুত হওয়া দরকার। আগামী ১৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানিতে বাজি পোড়ানোর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।