জেল থেকে মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল কমলেশ বালার (Kamalesh Bala) বিরুদ্ধে। বনগাঁ মহকুমা আদালতের (Bongaon Sub-divisional Court) রায়ে এবার সেই মামলাতেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কারাগারে থাকার সাজা হল তার। ১৪ বছরের নাবালিকাকে ভাইজিকে ধর্ষণের মামলায় বৃহস্পতিবার কমলেশকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক রাজীব সাহা (Judge Rajib Saha)। আদালতে মামলার শুনানিতে মোট ১৯ জন সাক্ষীর বক্তব্য উঠে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের সেপ্টেম্বরে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে নিজের ভাইজির উপর যৌন নির্যাতন চালায় কমলেশ। সেই ঘটনার পর আচমকাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটি। পরিবারের লোকজন তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও তার মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। নাবালিকার পরিবারের বয়ান, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য-সহ মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। এক বছরের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণা করেছে আদালত। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাসের দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই সাজা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই রায়ের ফলে কমলেশের আর জীবিত অবস্থায় কারাগারের বাইরে বেরোনোর সুযোগ থাকবে না।
কমলেশের বহু পুরনো অপরাধের ইতিহাস আছে। ২০০৩ সালে নদিয়ার ধানতলার আইশমালিতে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে দু’টি বাস আটকে মহিলাদের ধর্ষণের পাশাপাশি হামলা, লুঠপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে কমলেশও ছিল। ওই মামলায় ১৬ বছর কারাবন্দি থাকার পর গত বছর সে মুক্তি পেয়েছিল।
মুক্তির পর এক বছরের মধ্যেই ফের ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হওয়া এবং এবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় কমলেশের কারাবাস কার্যত দীর্ঘমেয়াদি হল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে তাকে। তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কমলেশের আইনজীবী।















