সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) জাত তুলে কুরুচিকর মন্তব্যের ক্ষেত্রেও কড়া আইনি পদক্ষেপ হতে পারে। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই স্পষ্ট করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিম্ন আদালতের নির্দেশও খারিজ করে দিল উচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন: আচমকা অসুস্থ! হাসপাতালে বিধানসভার স্পিকার
ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকে করা কয়েকটি পোস্টকে ঘিরে। অভিযোগকারীর দাবি, রবিউল ইসলাম বুলবুল ও সায়ন দত্ত নামে দুই ব্যক্তি তাঁর জাতিগত পরিচয়, ধর্ম এবং পরিবারকে নিশানা করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই অভিযোগের সমর্থনে ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট এবং সংশ্লিষ্ট লিঙ্কও পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। এরপর বেহালা থানায় তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(আর)/(এস) ধারায় মামলা দায়ের হয়।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই বর্ষার বিদায় নিলেও বৃষ্টি থেকে রেহাই নেই! জানুন আবহাওয়ার আপডেট
তদন্তে পুলিশ অভিযোগকারীর বক্তব্য রেকর্ড করে। পাশাপাশি পাওয়া যায় ডিজিটাল নথি এবং বিভিন্ন লিঙ্ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি তদন্তকারী সংস্থা ‘নিল’ বা ‘নো ক্লু’ রিপোর্ট জমা দেয়। পুলিশের বক্তব্য ছিল, সাইবার শাখার মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আলিপুরের বিশেষ আদালত ২০২৩ সালের ২৭ জুন অভিযোগকারীর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত একই অভিযোগকারীর করা আরও তিনটি মামলায় চার্জশিট জমা পড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়। তবে এই মামলায় পুলিশের ‘নিল’ রিপোর্টকেই গ্রহণ করা হয়।
সেই সিদ্ধান্তেই আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী। মামলাটি শুনতে গিয়ে বিচারপতি উদয় কুমারের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও একটি উৎস থেকে তথ্য না মেলায় তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে যখন মামলায় ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট, লিঙ্ক এবং অভিযোগকারীর জবানবন্দির মতো প্রমান রয়েছে।
হাইকোর্টের মতে, সামাজিক মাধ্যমে হওয়া জাতিগত অপমানের অভিযোগকে শুধুমাত্র ডিজিটাল মাধ্যমে ঘটেছে বলে খাটো করে দেখা যায় না। এসসি-এসটি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় এমন অভিযোগও তদন্তের বিষয় হতে পারে। তাই মেটা বা ফেসবুকের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়া যায়নি। এই কারণ দেখিয়ে তদন্ত শেষ করে দেওয়া যথেষ্ট নয়। বিচারপতি উদয় কুমার আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আইপি লগ-সহ অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সূত্র খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। মামলায় থাকা বৈদ্যুতিন উপাদানগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাইবার তদন্তের প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে আদালতের পর্যবেক্ষণে।
এরপরই ২০২৩ সালের ২৭ জুন বিশেষ আদালতের নির্দেশ বাতিল করে হাইকোর্ট। ফেসবুকে করা কথিত অপরাধমূলক পোস্টের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের লগ শনাক্ত করতে সাইবার-ফরেনসিক কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(৮) ধারায় তদন্তের পরবর্তী রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।















