কখনও কখনও একটা ম্যাচ শুধু ম্যাচ থাকে না, হয়ে ওঠে একটা যুগের অপেক্ষার অবসান। লালরেমসিয়ামির (Lalremsiami) জন্য শুক্রবারের দিনটা তেমনই। কেরিয়ারের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। আর সেই বিশেষ ম্যাচেই তাঁর স্টিক থেকে এল সেই গোল, যে গোলের হাত ধরে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলাদের হকিতে (Women's hockey at the Asian Games) সোনার পদক (Gold medal) জিতল ভারত। ফাইনালে চিনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে হারিয়ে ভারত শুধু একটা সোনা জিতল না, ফিরিয়ে আনল ১৯৮২ সালের সেই সোনালি স্মৃতিও।

লালরেমসিয়ামির গোলের পর থেকেই অবশ্য ভারতকে লড়াই করতে হয়েছে প্রতিটি মুহূর্তে। চিন বার বার আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেছে। ভারতের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছে। কিন্তু গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিচু দেবী যেন সেদিন আলাদা জেদ নিয়েই নেমেছিলেন। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে চিনের গোল করার সুযোগও এসেছিল। ঝাং ইংয়ের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন ভারতীয় গোলকিপার। সেই সেভের পর যেন আরও দৃঢ় হয়ে যায় ভারতের আত্মবিশ্বাস। 

ম্যাচের শেষটা ছিল স্নায়ুর পরীক্ষা। সময় কমছে, চিনের চাপ বাড়ছে, আর ভারত কোনও ভাবেই গোল হজম করতে চাইছে না। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য মরিয়া চিন নিজেদের গোলকিপারকেও তুলে নেয়। মাঠে বাড়তি এক জন খেলোয়াড় নামিয়ে ভারতীয় গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। কিন্তু সেদিন ভারতের গোলের দরজা খোলেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই এতক্ষণ বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখা উত্তেজনা বেরিয়ে আসে উচ্ছ্বাস হয়ে। খেলোয়াড়েরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফরাও আনন্দে মেতে ওঠেন।

এই জয়ের মূল্য তাই শুধু একটি সোনার পদকে আটকে নেই। ১৯৮২ সালের পর যে সাফল্যের অপেক্ষায় ছিল ভারতীয় মহিলা হকি, অবশেষে তারই পুনরাবৃত্তি হল। লালরেমসিয়ামির ২০০তম ম্যাচ হয়ে গেল ইতিহাসের অংশ। আর ভারত পেল আরও একটি সোনার পদক। চলতি এশিয়ান গেমসে যা দেশের ১৬তম সোনা। একই সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের দরজাও খুলে গেল ভারতীয় মহিলা হকি দলের সামনে। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে এ যেন সোনা দিয়ে লেখা এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।