জ্বর, সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন রোগী। চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছিল স্যালাইন। কিন্তু সেই স্যালাইন শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ তা খুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে স্যালাইনের পাইপ দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করলেও ডাক্তার-নার্সদের দেখা মেলেনি বলে দাবি রোগীর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের (Uttarpara State General Hospital) পরিষেবা।
অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন বাসু অধিকারী (Basu Adhikari)। তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর স্যালাইন শেষ হয়ে যায়। এরপর স্যালাইনের পাইপ দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করলেও দীর্ঘ সময় কোনও চিকিৎসাকর্মী তাঁর কাছে আসেননি বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি দেখে শেষ পর্যন্ত নিজেই স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে নার্সদের কাছে যেতে বাধ্য হন বাসুবাবু। কিন্তু সেখানেও সঙ্গে সঙ্গে স্যালাইন খুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁকে গিয়ে শুয়ে পড়তে বলা হয়। হাসপাতালের কোনও কর্মী গিয়ে বিষয়টি দেখে নেবেন বলেও জানানো হয়। এরপর দীর্ঘক্ষণ হাতের যন্ত্রণা নিয়েই তাঁকে শুয়ে থাকতে হয় বলে দাবি রোগীর। পরে গিয়ে স্যালাইন বন্ধ করা হয়।
অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্যালাইন দেওয়া হলেও সেটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি রোগীর নিজেকেই স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে নার্সদের কাছে যেতে হয়েছে। সেখানেও তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। তাঁর কথায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে সবকিছু নিয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা সম্ভব হয় না।
শুধু স্যালাইন নয়, হাসপাতালের রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুললে কোনও কোনও ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা যাতে সময়মতো দেওয়া হয়, সেই দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করারও দাবি জানাচ্ছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে অভিযোগের বিষয়টি জানানো হয়। তিনি সবটা শুনে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।















