একইসঙ্গে বাবা ও ছেলের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। ৪৯ বছরের সঞ্জয় রাউতের (Sanjay Raut) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ির বারান্দা থেকে। অন্যদিকে, ঘর থেকেই অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর ৭০ বছরের বাবা কমল রাউতকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয় তাঁরও। ঘটনাটি অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার (Ashokenagar Kalyangarh Municipality) ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে বারান্দায় ঝুলছেন সঞ্জয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে ভিড় জমে যায়। একই সময়ে ঘরের ভিতর কমলবাবুকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশনে প্রশাসনিক টানাপোড়েন, সিনিয়র DEC র সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দুই কমিশনার
সঞ্জয় রাউত এলাকায় তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা চালাতেন তিনি। স্থানীয়দের বক্তব্য, গত কয়েক মাস ধরে ব্যবসায় মন্দা চলছিল। সেই কারণে সঞ্জয় মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি তাঁদের। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই চাপ আরও বেড়েছিল বলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি। প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে দেখা যেত তাঁকে।
আরও পড়ুন: স্যালাইন শেষ, হাত দিয়ে বেরোচ্ছে রক্ত! উত্তরপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
পরিবারের পরিস্থিতিও ছিল আলাদা করে নজরে পড়ার মতো। সঞ্জয় অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। ফলে বৃদ্ধ বাবার দেখভালের দায়িত্ব অনেকটাই ছিল তাঁর কাঁধে। সেই বাবা-ছেলের একই ঘটনায় মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন প্রতিবেশীরা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবাকে অচেতন করার পর সঞ্জয় নিজে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তবে কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বাবার মৃত্যুর সঙ্গে ছেলের আত্মহত্যার যোগসূত্রই বা কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।















