রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার একদম শেষ পর্যায়ে। রবিবার বিকেলে শেষ হবে প্রচার পর্ব। এ’কদিন প্রচারে বিপুল সাড়া পাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। আর তা অনুমান করতে পেরে নানারকম চক্রান্ত করছে বিজেপি। শনিবার রেজিনগরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয় তুলে ধরেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রবিউল আলম চৌধুরী, জামিল চৌধুরী, রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় পাল।

কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, বিজেপি একজনকেই ভয় পায়, একজনকেই প্রধান প্রতিপক্ষ ভাবে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রেজিনগরে তাঁর নির্বাচিত প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে আটকানোর জন্য নানারকম চক্রান্ত করছে। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর প্রথমে নির্বাচনকমিশনকে দিয়ে দলের প্রতীক আটকে দে‍ওয়া হয়েছে। বিকল্প ফুটবল পায়ে খেলোয়াড় প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন রবিউল। গদ্দারদের কাজে লাগিয়ে আলাদা প্রার্থী দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। মানুষের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে দে‍ওয়া হচ্ছে। তাঁরা ভয়ে মনখুলে কথা বলতে পারছেন না।

সরাসরি অভিযোগ করে কুণাল বলেন, এখানে যাঁরা পঞ্চায়েত স্তরে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে রয়েছেন তাঁদের পুলিশ ডেকে পাঠাচ্ছে, তাঁদের বলা হচ্ছে ৫টি বা ১০টি করে নাম দিতে, যাদের বিজেপির হয়ে ভোট করাতে হবে। তা না হলে তাঁদের গ্রেফতার করা হবে বা মামলা দে‍ওয়া হবে। একাধিক নেতাকে থানায় ডেকে ভয় দেখানো হচ্ছে। 

বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, রবিবার প্রচারপর্ব শেষ হওয়ার পর থেকে কয়েকটি রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, রেজিনগরে মোট ৩১৫টি বুথ আছে। এর মধ্যে বেগুনবাড়ি, কাপাশডাঙা, মির্জাপুর, আন্দুলবেড়িয়া, রামপাড়া, দাদপুর এলাকার বুথগুলো দখল করে রিগিংয়ের পরিকল্পনা করছে বিজেপি। ওদের এখানে লোক নেই। বাইরে থেকে পুলিশের সহযোগিতায় লোক এনে এই কাজ করা হবে। যাদের দিয়ে ভোটের দিন এবং ভোরবর্তী সময়ে কারচুপি করার চেষ্টা চলছে। জলঙ্গি, নওদা, রানিনগর বহিরাগত ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। প্রতিটি হোটেলে তল্লাশি চালাতে হবে। প্রচার শেষে কোনও অজুহাতে একজনও বহিরাগতকে রেজিনগরে রাখা যাবে না। রাস্তায় শুধু নাকা চেকিং নয়, প্রপার ব্লকেডের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে না। ফলে ভোট চলাকালীন এবং কাউন্টিংয়ের সময় পর্যন্ত সিসিটিভি একমুহূর্তের জন্যও বন্ধ করা যাবে না। কুণালের অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কোনও গন্ডগোলের আশঙ্কা করে বা অভিযোগ জানাতে যখন থানায় ফোন করছেন তখন ফোন ধরা হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই বিষয়ে প্রথমে নির্বাচন কমিশন পরে কোর্টে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা। একই সঙ্গে কুণাল ঘোষের হুঁশিয়ারি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে যাকে ইচ্ছা ভোট দিতে পারেন। কিন্তু ভোট যাতে সবাই দিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশ দিয়ে ভোট করানো রুখতে যা করার তাই করা হবে। এখানে কোনও বাছবিচার থাকবে না।