নিয়োগ থেকে আর্থিক ব্যয় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Gour Banga) একাধিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হতে চলেছে তদন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমোদন ছাড়াই বিপুল অর্থ খরচ এবং অনুমোদনহীনভাবে নন-টিচিং কর্মী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান বা রুসা প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)-এর তদন্তকারী দল। একইসঙ্গে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকেও পৃথক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্যালাইন শেষ, হাত দিয়ে বেরোচ্ছে রক্ত! উত্তরপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রুসা প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। নির্দিষ্ট খাতে ওই অর্থ ব্যয়ের কথা থাকলেও বরাদ্দের সিংহভাগ সেইভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। যে অংশের টাকা খরচ হয়েছে, সেখানেও সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকেও উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে দফতরের অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছু নন-টিচিং কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ইতিমধ্যেই একাধিক বিষয়ে তদন্ত সংক্রান্ত চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের একটি তদন্তকারী দল বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে আসবে। ক্যাগের তরফেও তদন্ত সংক্রান্ত চিঠি এসেছে। উপাচার্যের দাবি, তাঁর দায়িত্বকালে যে কাজ হয়েছে, তার জন্য তিনি দায়বদ্ধ। তবে তাঁর সময়ে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ না হলে বা ব্যয় না হয়ে থাকলে সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্তকারী দল এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দর থেকে অতীতের বিভিন্ন কাজ নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপকের দাবি, ঘাস কাটার কাজ থেকে ওয়াই-ফাই পরিষেবা, লাইব্রেরির পরিকাঠামো থেকে ভবন নির্মাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচের ধরন নিয়ে সময়ে সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোনও কোনও প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দ হলেও তা অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরিকাঠামো নির্মাণ বা উন্নয়নের জন্য পাওয়া অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
আরও পড়ুন: এবার নয়া অভিযোগ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে!
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে একাধিকবার তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এবার ক্যাগের (CAG) অডিট এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের তদন্ত শুরু হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ, নিজস্ব তহবিল থেকে হওয়া ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলির নথি খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা এবং কোথাও নিয়ম লঙ্ঘন হয়ে থাকলে তার দায় কার, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।















