অভয়া (Abhaya) কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রাইকে ইতিমধ্যেই আজীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে শিয়ালদহ কোর্ট (Sealdah Court)। যদিও এই রায়ের খুশি নন অভয়ার পরিবার। আর সেই ক্ষোভেই আবারও সরাসরি সিবিআইয়ের (CBI) তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। তদন্তের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক সীমা পাহুজার (Seema Pahuja) ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত কোনওভাবেই সন্তুষ্ট নন তিনি। সিবিআইয়ের তদন্তে যদি গাফিলতি হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি রত্নার।
আরও পড়ুন: শিশুকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মার, বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত মা! ভাইরাল ভিডিও
আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশের আইনি খুঁটিনাটি তাঁর জানা নেই বলেই জানিয়েছেন অভয়ার মা। তবে এতদিনের তদন্তের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সিবিআইয়ের কাজকর্মে তিনি সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজাকে ঘিরে তাঁর আপত্তি দীর্ঘদিনের। তাই এবার ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাজ্যপালের নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো ফোন, অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার! কড়া পদক্ষেপ লোকভবনের
সীমা পাহুজাকে ঘিরে অবশ্য এর আগেও প্রশ্ন তুলেছে অভয়ার পরিবার। সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অতীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তদন্তের ক্ষেত্রে দু’বার গোল্ড মেডেল পেয়েছেন সীমা। হাথরাস মামলায় সিবিআই যে তদন্তকারী দল তৈরি করেছিল, তার নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। সেই সময় উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের সিবিআই ইউনিটের দুর্নীতি দমন শাখায় কর্মরত ছিলেন সীমা।
অভয়ার মায়ের এই বক্তব্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীও। যদিও সীমা পাহুজাকে নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে রত্না দেবনাথ যে দাবি তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ন্যায্য বলেই মনে করেন তিনি। মেয়ের বিচারের দাবিতে পরিবারের যে লড়াই, তাতে তাঁর পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন বিধায়ক। অভয়ার পরিবার যখন তদন্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল, সেই সময়ই পদোন্নতি হয়েছিল সীমা পাহুজার। আরজি কর মামলার তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সময় তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ছিলেন। পরে পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হন তিনি।
এর মধ্যেই অভয়ার সৎকার সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের হাত থেকে তদন্তের দায়িত্ব সরিয়ে তা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, হাইকোর্টের নির্দেশে সিট গঠন করা হলেও পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়নি। ফলে এই মামলার তদন্তভারও সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
খড়দহ থানার ভূমিকা নিয়েও এদিন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি শম্পা সরকার। আদালতের নির্দেশের পরেও কেন তদন্তে অগ্রগতি হল না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ফলে একদিকে অভয়ার পরিবারের সিবিআই তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে সৎকার সংক্রান্ত মামলাতেও সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার, দুই ঘটনাতেই ফের সামনে এসেছে তদন্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।















