আগামী ৬ অক্টোবর বিজেপির লাগামছাড়া সন্ত্রাস, হুমকির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে রেজিনগরের (Rejinagar) মানুষ। উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই গোটা রেজিনগর জুড়ে পুলিশ দিয়ে যেভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে বিজেপি, তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (Mamata All India Trinamool Congress) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (MP Kalyan Banerjee) ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ (MLA Kunal Ghosh)। সাম্প্রতিক অতীতে রেজিনগরের মানুষকে কখনও এই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয়নি। তাঁদের জীবন যেন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা ভরসা রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে (Rabiul Alam Chowdhury) ফুটবল খেলোয়াড় চিহ্নে ভোট দিয়ে বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিতে চাইছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: "বাবা, মরতে চাই না": নিনার আর্তনাদেই রক্ষা পায় ফ্লাইদুবাই

গোটা রেজিনগর জুড়ে প্রচারে ঝড় তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সৈনিকরা। শুক্রবার দলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর হয়ে প্রচারে নেমেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন একাধিক জায়গায় জনসভা করেন তাঁরা। রেজিনগরের পুরনো থানা এলাকায় রবিউল আলম চৌধুরীর সমর্থনে এক জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ এবং কুণাল। তাঁরা নিজেদের বক্তব্যে এলাকা মাতিয়ে দেন। শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, গত সাড়ে পাঁচ মাসে রাজ্যে কোনও উন্নয়ন হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুধু খোল-করতাল নিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাজ্যে কোনও শিল্পপতি, ব্যবসায়ী কাজ পায়নি। গরিব মানুষদের, হকারদের পেটে লাথি মারছে বিজেপি সরকার। কল্যাণ বলেন, এই সাড়ে চার মাসে সবচাইতে অবহেলিত, ঘৃণিত হতে হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষকে। গোটা বাংলা জুড়ে তাঁদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ সব ধর্মের মানুষের আত্মবলিদানের মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। এর জবাব রেজিনগরের মানুষকে দিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে। শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, রেজিনগরের মানুষ ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। গোটা দেশ রেজিনগরের মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে। বিজেপি যেভাবে ভোট চুরি থেকে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে তার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ঝড় উঠেছে। এই সময় বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ রেজিনগরের মানুষের সামনে এসেছে।

বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ নিজের বক্তব্যে বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে গাোটা দেশে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস, সারের দাম প্রায় নিত্যদিন বাড়ছে। শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ মানুষের চাপ বাড়ছে। আর বিজেপি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে, পলিশকে দিয়ে সন্ত্রাসের, আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে, যেন জঙ্গলরাজ চলছে। তাই বিজেপি বিরোধী ভোটকে ভাগ হতে দেওয়া যাবে না। এ-প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, বিজেপি একমাত্র ভয় পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং তাঁর সৈনিকদের। তাই তৃণমূলকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে গদ্দার বিধায়ক, সাংসদদের দিয়ে। দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীরা একত্রে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। ফলে বিজেপি’কে হারাতে রবিউল আলম চৌধুরীকে খেলোয়াড় চিহ্নে ভোট দিতে হবে। রেজিনগরের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে তাঁরা ইমানদারদের সঙ্গে থাকবেন না গদ্দারদের সঙ্গে থাকবেন। এরপরই কুণাল ঘোষ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, মানুষকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দিন। তাঁর সংযোজন, বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল একত্রে বুথ পাহারা দিন। বিজেপি যেভাবে ভোটের দিন সন্ত্রাসের কথা ভাবছে তা একত্রে প্রতিহত করুন গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে। যেন প্রত্যেক বুথে এজেন্ট থাকে সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: নির্দেশ ছাড়াই দোকান উচ্ছেদ! রাজ্যকে ভর্ৎসনা আদালতের

প্রার্থী রবিউল চৌধুরী জানিয়েছেন, গত দু'দিন ধরে বিজেপি পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে মমতা অলইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ১৪টি সংবাদ মাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে রেজিনগরের কোনও খবর না করা হয়। আসলে বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমরাও দৃঢ প্রতিজ্ঞ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।