একসময় বাংলার কিশোর-কিশোরীদের পাঠ্যজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল সুকান্ত ভট্টাচার্যের (Sukanta Bhattacharya) ‘আঠারো বছর বয়স’। সেই কবিতা এখন আর স্কুলের পাঠ্যক্রমে নেই। কবির জন্মশতবর্ষের আবহে তাই পুরনো সেই পাঠ ফেরানোর দাবি উঠল। ‘আঠারো বছর বয়স’-এর পাশাপাশি ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাটিও পাঠ্যসূচিতে ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ (West Bengal Democratic Writers and Artists Association)। 

আরও পড়ুন: মুক্তি পেয়েই ফের ধর্ষণ, এবার আমৃত্যু কারাবাসের সাজা ধানতলাকাণ্ডের কমলেশের

সংগঠনের তরফে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সুকান্তের সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ফলে তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা পড়ুয়াদের পাঠের পরিসর থেকে বাদ থাকার বিষয়টি নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। চলতি বছর কবির জন্মশতবর্ষ হওয়ায় দাবিটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংগঠনের সদস্যরা। চিঠিতে সই করেছেন পবিত্র সরকার ও রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচিতে কবিতা দু’টি ফেরানোর জন্যই তাঁদের আবেদন।

তবে শুধু সুকান্তের কবিতা নয়, গোটা স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়ে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ (School Education Minister Deepak Barman)। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সিলেবাস নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের পাঠ্যক্রমও ফের খতিয়ে দেখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন সিলেবাস নিয়ে কাজের জন্য কমিটি তৈরি হয়েছে। সেই কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: দুর্গা প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি-টেম্পোর সংঘর্ষ, মৃত অন্তত ৭

শিক্ষামন্ত্রীর ইঙ্গিত, ২০২৮ সালে রাজ্যের স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হতে পারে। ফলে আগামী দিনে বাংলা সাহিত্যের কোন কোন লেখা পড়ুয়াদের পাঠ্যতালিকায় জায়গা পাবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এই পরিস্থিতিতেই সুকান্তের কবিতা ফেরানোর দাবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও লেখক-শিল্পীদের এই আবেদনের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত জন্মশতবর্ষের বছরে ‘আঠারো বছর বয়স’ ও ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ ফের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নেয় কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে নতুন সিলেবাস চূড়ান্ত হওয়ার পরেই।

এই বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারোর কোন কবিতা বাদ দেননি। সিলেবাস কমিটি ছিল। তারা অনেক বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিকদের সৃষ্টি পাঠ্যবই ছিল এবং সবসময় কারোর না কারোর কোনো না কোনো মতামত থাকবে। এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউকে বাদ দিয়েছেন এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার সাহিত্যিক এবং তাদের সৃষ্টিকে চিরকাল সম্মান দিয়েছেন।