একতা দিবসের মহড়ার প্রস্তুতির মধ্যেই ডেঙ্গির হানা গুজরাতে। আগামী ৩১ অক্টোবর ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’-এর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে গান্ধীনগরে জড়ো হওয়া নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক দলের সদস্যদের মধ্যে অন্তত ২৪ জনের ডেঙ্গি রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

 

 তাছাড়া জ্বর, গাঁটে ব্যথা এবং পেশিতে যন্ত্রণার মতো উপসর্গ নিয়ে আরও বেশ কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালের আরএমও বিপুলা পাণ্ড্যার বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রায় ৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের ডেঙ্গি ধরা পড়ে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত আরও পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হন—তাঁদের মধ্যে একজনের রিপোর্ট পজিটিভ এবং চারজনকে সন্দেহের তালিকায় রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কেরল, বিহার, ছত্তীসগঢ়-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁরা গুজরাতে এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে প্রায় ১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিদের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। প্যারেডের প্রস্তুতিতে আসা বহু সদস্য গান্ধীনগরের একটি বড় হস্টেল কমপ্লেক্সে একসঙ্গে থাকছিলেন। ফলে তাঁদের থাকার জায়গায় মশার উপদ্রব বা সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঠিক কোথা থেকে ডেঙ্গি ছড়িয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি স্বাস্থ্য দফতর। একইসঙ্গে একই দলের বহু সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় জেলা ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এপিডেমিওলজিক্যাল টিম মাঠে নেমেছে। থাকার জায়গাগুলিতে নজরদারি, মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, ফগিং এবং প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।

৩১ অক্টোবর একতা নগরে আয়োজিত হতে চলেছে মূল রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের প্যারেড। ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাই-পাস্টের আয়োজন রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। এদিকে গান্ধীনগরে থাকা প্যারেডের সদস্যদের মধ্যে জ্বর ও ডেঙ্গির ঘটনা সামনে আসতেই স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা এত বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে সংক্রমণ যাতে আরও না ছড়ায়, সেদিকেই এখন নজর।

 এমতাবস্থায় ডেঙ্গি আক্রান্ত জওয়ানদের নিয়ে গুজরাত প্রশাসনকে নিশানা করেছে আম আদমি পার্টি (AAP)। দলের নেত্রী গৌরী দেশাইয়ের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে জাতীয় একতা প্যারেডে অংশ নিতে আসা জওয়ানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন ছিল। AAP নেতৃত্ব আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যায় এবং শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলের অভিযোগ, গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ভর্তি জওয়ানদের খাবারের ব্যবস্থাতেও ঘাটতি রয়েছে—সকালে তাঁদের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে বিস্কুট দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


একদিকে জাতীয় একতা দিবসের বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সেই প্রস্তুতিতে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যেই ডেঙ্গির সংক্রমণ—সব মিলিয়ে গান্ধীনগরে এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষাই প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।