মাঝ আকাশে বিমানের ককপিটে (Cockpit) স্বামী ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের (Smit Machchhar) উপর হামলার খবর যখন কানে আসে, তখন কার্যত কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি স্ত্রী সোনাল মাচ্ছার (Sonal Machchhar)। কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন, কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কোনও কিছুই যেন মাথায় আসছিল না। শুধু স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আশঙ্কা ঘিরে ধরেছিল তাঁকে।

আরও পড়ুন: সিজেপির আন্দোলন মঞ্চ কানায় কানায় পূর্ণ! বিশিষ্ট শিল্পীরাও তুললেন জ্ঞানেশ হটানোর আওয়াজ

সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা এবার শোনালেন সোনাল। এক সাক্ষাৎকারে সোনাল জানান, খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটাও বুঝতে পারছিলেন না। সোনালের কথায়, স্মিতের কী হয়েছে, তিনি আদৌ নিরাপদে আছেন কি না, এই উৎকণ্ঠাই প্রথমে তাঁকে গ্রাস করেছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, স্মিতের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার স্বামীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান সোনাল। নিজের চোখে স্মিতকে দেখার পর তাঁর উদ্বেগ কিছুটা কমে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির চিকিৎসক এবং সামরিক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্মিতের চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি। 

আরও পড়ুন: গাফিলতির অভিযোগ! CBI অফিসার সীমার বিরুদ্ধে তদন্ত চান অভয়ার মা

তবে উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সোনালের কথায়, স্মিতের সুস্থতার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবকিছু করতে প্রস্তুত তিনি। এরই মধ্যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আহত ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী বলে খবর সামনে আসে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সোনাল স্পষ্ট করে জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার উপযুক্ত ব্যক্তি তিনি নন। স্মিত সুস্থ হয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় ফিরলে তিনিই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান সোনাল।

ঘটনার সূত্রপাত তেল আভিভগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে। বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলায় আহত হন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানটির গতিপথ বদলে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়। যাত্রীদের বয়ান অনুযায়ী, ককপিটের ভিতরে হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানের অন্য পাইলট এবং কর্মীরাও এগিয়ে আসেন।