লেবার রুমে (Labour Room) বোরখা (Burqa) পরে প্রবেশ করা যাবে না। আর তা নিয়েই বিতর্ক জম্মুর (Jammu) ডোডার একটি সরকারি হাসপাতালে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন নার্স (Nurse) এবং নার্সিং ছাত্রীরা। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বোরখা পরে লেবার রুমে প্রবেশ করায় এক নার্সিং ছাত্রীকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। নির্দেশ দেন স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ডা. মধু চিবের।
আরও পড়ুন: পুজোর পর কলকাতার রাজপথে CJP! জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে সভার সম্ভাবনা
বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রতিবাদ শুরু করেন হাসপাতালের নার্স এবং নার্সিং ছাত্রীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পরের দিনও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তাঁদের দাবি, বৃহস্পতিবার আরও দুই নার্সিং ছাত্রীকে লেবার রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। আন্দোলনকারী এক ছাত্রী বলেন, “আমরা দেখেছি, একই কারণে আরও দু’জন ছাত্রীকে লেবার রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।” তাঁর অভিযোগ, পোশাকের বিষয়টি ধর্মীয় অধিকারের সঙ্গে যুক্ত এবং সেখানে এভাবে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজো উপলক্ষে রেশনে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে অন্য ব্যাখ্যা। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. ইরফান তাসাদুকের দাবি, কাউকে ধর্মীয় পোশাক পরার জন্য বাধা দেওয়া হয়নি। বরং লেবার রুম এবং অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল জায়গায় নির্দিষ্ট পোশাকবিধি মেনে চলার কথাই বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রীদের ঢিলেঢালা পোশাক ঠিক করে তার উপর নির্ধারিত গাউন পরতে বলা হয়েছিল।
ডা. তাসাদুক আরও জানান, সংক্রমণের আশঙ্কা থাকায় লেবার রুমের মতো জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই নিয়ম চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যার পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহলও। ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান মুখপাত্র তানভির সাদিক বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কোনও নারী হিজাব বা ধর্মীয় পোশাক পরবেন কি না, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ফলে এই বিষয়ে কোনও ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয় বলেই মত তাঁর।
এখন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেই নজর। হাসপাতালের পোশাকবিধি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম এবং নার্সিং ছাত্রীদের অভিযোগ, সব দিক খতিয়ে দেখেই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।















