জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে শনিবারও ফের উত্তাল রাজধানী (Delhi)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এদিন দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে মিছিলের ডাক দেয় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)। স্লোগান ওঠে, ‘জ্ঞানেশ কুমার গদি ছাড়ো’।  মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যন্তর মন্তর চত্বর। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি, কথা কাটাকাটিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। 

আরও পড়ুন: ‘জেল ভরো’ জমায়েতেই মৃত্যু বৃদ্ধের, CJP-র বিক্ষোভেই মর্মান্তিক পরিণতি

 বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সেখানে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আরও বিপুল সংখ্যক মানুষকে রাজপথে নামতে হবে। প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। তা কখনই কেড়ে নিতে পারবে না।  মহুয়া আরও বলেন, বিক্ষোভ আটকাতে ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল দিল্লি অবরুদ্ধ। ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারও যাবেন, আর তাঁর প্রভুরাও যাবেন। সেইসঙ্গে সকলকে এদিনের যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগদানের আহ্বান জানান মহুয়া। 

 

শনিবারের যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এআইএসএ-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার সঙ্গে যোগ দেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল, প্রশান্ত ভূষণ, আইনজীবী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের একাংশ। বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে শুরু করেন। কিন্তু তার আগেই পুলিশ সেখানে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয় ব্যারিকেড।
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরার দাবি, “শুক্রবারের মতো শনিবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে।” সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও শনিবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যন্তর মন্তরে ফের জমায়েতের ডাক দেন। তাঁর বক্তব্য, “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মানুষের অধিকার এবং সেই অধিকার পুলিশের ক্ষমতা দিয়ে কেড়ে নেওয়া যায় না।”

শুক্রবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের কাছে বড়সড় বিক্ষোভ হয়। বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয় এবং প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক হয়েছিলেন। পরে তাঁদের অনেককেই ছেড়ে দেওয়া হয়। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) তিনটি এফআইআরও দায়ের করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দুটি এবং কনট প্লেস থানায় একটি মামলা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২২৩ ধারায় সরকারি আধিকারিকের জারি করা নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে মামলাগুলি করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনকে মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম দেওয়া হয়নি।