সিজেপির (CJP) গণআন্দোলনকে নিশানা করতে বিজেপি ছাড়াও অন্য একটি রাজনৈতিক দল চক্রান্ত করছে, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিস্ফোরক দাবি ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের। NEET বিক্ষোভ হোক বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি, দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা যতই বাড়ছে ততই জেন জির সমর্থন বাড়ছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতি। কিন্তু বিজেপি বিরোধী অন্যান্য দলগুলো আদৌ আমজনতা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মন জিততে পারছে কি,সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এসবের মাঝেই এবার নাম না করে দেশের কিছু লিবারেল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের নামে সামাজিক মাধ্যমে ভন্ডামি করার মারাত্মক অভিযোগ করলেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। 

গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে জ্ঞানেশ বিরোধী কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে উপস্থিত হয়ে সিজেপির দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেই মঞ্চে দেখা গিয়েছে নাসিরউদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি, বিশাল দাদলানির মতো বলিউডের তারকাদেরও দেখা গিয়েছে। দেশ জুড়ে আন্দোলনের ঘোষণাও করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই বিক্ষোভ কর্মসূচির পর সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে আশুতোষ লেখেন, দীর্ঘ সময় পর অভিজিৎ যখন দেশের কোটি কোটি তরুণের মনে আশা জাগাতে পেরেছেন তখন কিছু তথাকথিত লিবারেল গোষ্ঠীর সামাজিক মাধ্যমে বসে গণতন্ত্র রক্ষার নামে ভন্ডামি করছে এবং সিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে তাকে দমানোর চেষ্টা করছে। 

এদিন আশুতোষের পোস্ট উল্লেখ আর সৌরভ বলেন, এটা এই সময়ের বড় এক সমস্যা। তাঁর কথায়, বিজেপি ছাড়াও অন্য এক দল মনে করে দেশ ও সংবিধান রক্ষা করা নাকি তাদেরই দায়িত্ব। এরা নিজেদের উদারপন্থী ও সংবিধানের স্বঘোষিত রক্ষক বলে দাবি করে অনেক সময় বিজেপির থেকেও খারাপ আচরণ করে। তাদের বিভাজন ও শাসনের নীতির কারণেই আর এই অবস্থা। তাদের ব্যর্থতার কারণেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে যেখানে তরুণদের পথ দেখাতে হচ্ছে। তাই সিজেপিকে নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে কি করে Gen Z-কে সহায়তা করা যায় এদের সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।' এখানেই শেষ নয় এই দলকে আস্ত ভাঁড় বলেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন সৌরভ। CJP-র দুই নেতৃত্বের সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করার পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।  

সিজেপির পোস্টের পরেই অসম কংগ্রেসের নেতা পাল্টা জানান যে হিমন্তর বিশ্বশর্মার রাজ্যে সিজেপি কর্মীরা পুলিশের হাতে আটক হতেই কংগ্রেস তাঁদের ছাড়াতে সাহায্য করেছিল। যদিও আপের নির্দেশে ককরোচরা কংগ্রেসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেনি, বলে বিস্ফোরক দাবী করেছেন তিনি। একদিকে যখন মনে করা হচ্ছে দেশে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে সব দল একজোট হচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ তীব্র করছে জেন জি, সেই আবহে সিজেপির পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক বাড়ছে। মুম্বাইয়ে ককরোচদের কর্মসূচির জেরে ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে অভিজিৎ-সহ ৫০০ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে। আরশোলাদের আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।