"মানুষ নেতা বানায়, আর সেই মানুষের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাদের কোথাও জায়গা হয় না।" ইসলামপুরের (Islampur) সাংগঠনিক সভা থেকে বিজেপি (BJP) এবং ঋতব্রত শিবিরকে একযোগে নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। রবিবার চোপড়া (Chopra) বিধানসভার ইসলামপুর ব্লকের সুজালী কালুঘা মাঠে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং চোপড়ার বিধায়ক হামিদুর রহমানকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। এদিনের সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন-সহ দলের জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব এবং কর্মীরা।

আরও পড়ুন: শেষবেলার প্রচারে নন্দীগ্রামে 'শুভেন্দু-ঝড়', সংখ্যালঘু ভোট টানতে মরিয়া পদ্ম শিবির

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং হামিদুর রহমানকে ‘বেইমান’ ও ‘বিজেপির চামচা’ বলে কটাক্ষ করেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “অনেক উত্থান-পতন দেখেছি, দীর্ঘ লড়াই করেছি। তখন এই গদ্দাররা ছিল না। মানুষই নেতা তৈরি করে। সেই মানুষের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাঁদের জায়গা হয় না।” এরপরই তাঁর দাবি, “এই দু’জনের রাজনৈতিক কেরিয়ার খতম।” সাধারণ মানুষকেই আগামী দিনে এই ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ যোগ্য জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: BMS-র নাম করে হুমকির অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় ফেসবুক লাইভে প্রশিক্ষক

এদিন সভা থেকেই চোপড়ার নতুন কনভেনর হিসেবে আব্দুল সাত্তার ও শঙ্কর বৈদ্যর নাম ঘোষণা করেন কল্যাণ। একই সঙ্গে দলের ভিতরে কোনও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। উত্তর দিনাজপুরে আগামী দিনে তৃণমূলই শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকবে বলে দাবি করে প্রতি মাসে জেলায় আসার কথাও জানান তৃণমূল সাংসদ।

ভোটার তালিকা নিয়েও এদিন সরব হন কল্যাণ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, দেশজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বহু মানুষের নাম বাদ দিয়ে ভোট করানো হয়েছে। কল্যাণের কথায়, “সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের ভোট কাটা হয়েছে।” জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জেন-জি আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। বিরোধী সাংসদেরাও এই দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামছেন বলে দাবি করেন কল্যাণ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের নেপথ্যে রয়েছেন মোদি-শাহ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের সঙ্গে কেন্দ্র থেকে বিজেপির বিদায়ের ঘণ্টা বাজবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভোটে কারচুপি করে ক্ষমতায় এলেও মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ।

ইসলামপুরে সভা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, সভার আগে রাতভর এলাকায় পুলিশের গাড়ি ঘুরেছে এবং মানুষকে সভায় আসতে ভয় দেখানো হয়েছে। এমনকী গ্রেফতারির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভয় দেখিয়ে মানুষকে আটকানো যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল সাংসদ। এদিন সাধারণ মানুষের দুর্দশার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। হকারদের উপর ‘আঘাত’ করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে বিজেপি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে।

পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, “খুব শীঘ্রই এনডিএ সরকার আর থাকবে না।” আগামী দিনে সর্বদলীয় সমর্থনে দেশে সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। সাধারণ মানুষ পাশে থাকলে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক লড়াই আরও জোরদার হবে বলেও দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ।