জল্পনা ছিলই। তাতেই সিলমোহর পড়ল। ফুল বদলে এবার বিজেপির (BJP) টিকিটে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) প্রার্থী টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koyel Mallik)। কয়েক মাস আগেই তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়া কোয়েল এবার পদ্ম টিকিটে ফের উচ্চকক্ষে ফেরার খবরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনেই ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। আর ভোটই বিজেপির প্রার্থী কোয়েল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তৃণমূলের (TMC) রাজ্যসভা সাংসদ থেকে বিজেপির রাজ্যসভা প্রার্থী হয়ে ওঠা নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা ওই আসনে ভোট। মনোনয়ন (Nomination) জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর, ৭ অক্টোবর হবে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি এবং ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। সেই হিসেবে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই কোয়েলকে বিজেপিতে যোগ দিতে হবে। রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হিসেবে ফের রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অভিনয়জগতের জনপ্রিয় মুখ কোয়েল মল্লিকের রাজনীতিতে প্রবেশই ছিল চমকপ্রদ। ২০২৬ সালের শুরুতেই সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন কোয়েল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়। দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন এবং ৬ এপ্রিল শপথ নেন। সেই সময় তিনি ছিলেন তৃণমূলের চার রাজ্যসভা প্রার্থীর অন্যতম। কিন্তু সেই রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। ১৬ জুলাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। সেই সময় দিল্লিতে বিজেপির মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি গিয়ে দেখাও করেন অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং ফের রাজ্যসভায় যাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।
আরও পড়ুন: নতুন করে চাপের মুখে জ্ঞানেশ কুমার, ২০ বছরের পুরনো ঘুষ-কাণ্ডে ফের তদন্তের নির্দেশ
কারণ কোয়েলের আগে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হিসেবে ফের রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। কোয়েলের পদত্যাগের ফলে পশ্চিমবঙ্গের একটি রাজ্যসভা আসন শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন সেই আসনে ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে। নির্বাচিত নতুন সাংসদ শূন্য হওয়া মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য দায়িত্বে থাকবেন—অর্থাৎ মেয়াদ চলবে ২ এপ্রিল ২০৩২ পর্যন্ত। বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই আসনে গেরুয়া শিবিরের জয় অত্যন্ত সম্ভাব্য বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।















