একই ছাদের নিচে মাটির সোঁদা গন্ধ আর রং-তুলির টানের মেলবন্ধন। একদিকে মায়ের হাতের ছোঁয়ায় মাটির তাল থেকে ধীরে ধীরে রূপ পাচ্ছেন দশভুজা দুর্গা, আর ঠিক পাশেই ক্যানভাসে সেই প্রতিমাকে নিজের মতো করে ফুটিয়ে তুলছে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের আশ্রমপাড়ায় মা-মেয়ের এই অনন্য শিল্পচর্চা এখন বহু মানুষের নজর কাড়ছে।

আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা অনন্যা বিশ্বাসের পরিবার বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। পরিবারের এই ঐতিহ্যের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও শ্বশুর প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। সারা বছর ধরে বিশ্বকর্মা, গণেশ, দুর্গা, কালী-সহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা গড়ার কাজ চলে তাঁদের কর্মশালায়। খড়-কাঠামোর বাঁধন থেকে শুরু করে মাটির প্রলেপ, অবয়ব তৈরি এবং চোখ আঁকা—প্রতিটি ধাপেই থাকে নিখুঁত শিল্পভাবনা ও ধৈর্য।

মায়ের সেই শিল্পের ছাপ পড়েছে মেয়ে পারিধি বিশ্বাসের রক্তেও। তবে সে বেছে নিয়েছে ক্যানভাস আর রং-তুলির মাধ্যম। প্রতিদিন চোখের সামনে মায়ের প্রতিমা তৈরির মুহূর্তগুলো দেখে সে ক্যানভাসে জলরং, তেলরং ও অ্যাক্রিলে দিয়ে ফুটিয়ে তোলে। পাশাপাশি গ্রামীণ জীবন ও দেবদেবীর রূপও উঠে আসে তার চিত্রে। মায়ের কাছেই যার প্রথম হাতেখড়ি, সেই পারিধি অবসর সময়ে মাটির কাজেও সামান্য হাত লাগায়, আবার সময় পেলেই বসে পড়ে ক্যানভাস নিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি প্রবল ঝোঁক দেখা গিয়েছে পারিধির। পড়াশোনার পাশাপাশি তার আঁকার প্রতি এই গভীর আগ্রহ দেখে আনন্দিত গোটা পরিবার। বড় হয়ে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হওয়াই লক্ষ্য তার। মায়ের হাত ধরে যে সৃজনশীল জগতের শুরু, তাকেই ভবিষ্যতে আরও বড় ক্যানভাসে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বসিরহাটের এই খুদে শিল্পী।