উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচারই হয়নি। উপনির্বাচনের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর করা দাবি এবং নথির প্রেক্ষিতে এ বার কড়া ভাষায় জবাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের আঘাত নিয়ে মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন,  ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আপত্তিকর এবং নিম্ন রুচির বক্তব্য রেখেছেন’। তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রশাসনিক প্রভাব বা হাসপাতালের সুযোগ নিয়ে যা ইচ্ছে তৈরি করে বিকৃত প্রচার চালানো হচ্ছে’। তৃণমূল নেত্রীর আঘাত কতটা গুরুতর ছিল, তা সে সময়ে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরাই জানেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিধায়ক কুণাল ঘোষ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মমতাদির পা-এর জখম নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনক ও রুচিহীন। কারুর ব্যক্তিগত জখম নিয়ে কুৎসা ও অপপ্রচার আপত্তিকর। মমতাদির পায়ের জখম ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা তার সাক্ষী। যে সংস্থায় যাঁরা চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁরা জানেন। এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাতে আছে বলে যে কোনো বিকৃত প্রচার করা ঠিক নয়। শুভেন্দুর বোঝা উচিত, ভাঙলে তবু জোড়ে বা সারে। কিন্তু নরম টিস্যু, মাসল আর হাড়ের উপর গভীর আঘাত সারা কঠিন। এখনও মমতাদির পায়ে ফোলা অংশ স্বাভাবিক নয়। আমি যতদূর জানি, পুরো সারেনি। তা নিয়ে উপনির্বাচনের আগে এই কুৎসিত রাজনীতি আপত্তিকর, নিন্দনীয়। মমতাদিকেই যে বিজেপি আসল প্রতিপক্ষ ভাবে এবং তাদের শয়নে স্বপনে জাগরণে মমতাদিকেই দেখে, সেটা আবার প্রমাণিত। তাছাড়া চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠান কখনও কারুর ব্যক্তিগত চিকিৎসাতথ্য বাইরে আনার রীতি নেই, সরকার সেটাও যেন মনে রাখে। রাজনীতিকে আর কত নিচে নামাবে এরা? মমতাদির পায়ের সেই ভয়ংকর আঘাত নিয়ে নোংরামি চূড়ান্ত আপত্তিকর’। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে মমতাকে নিশানা করতেই এ ধরনের নিম্ন রুচির আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।