ফের সিপিএমের পার্টি অফিস (CPM Party Office) ভাঙচুর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মিছিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙা হল পার্টি অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের (Cooch Behar) মাথাভাঙা এলাকায়। স্থানীয় সূত্র মারফত খবর, শনিবার গভীর রাতে মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের জোড়পাটকির গোলকগঞ্জ বাজার এলাকায় সিপিএম (CPM) দীর্ঘদিনের ওই কার্যালয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছে সিপিএম নেতৃত্ব। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি (BJP)।

আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে ‘পুলিশি রাজ’! সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগে অমিত শাহকে নিশানা রাহুলের

শনিবার সন্ধ্যায় গোলকগঞ্জ বাজার এলাকায় সিপিএমের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। বৈধ ভোটারদের দ্রুত ভোটার তালিকায় নাম তোলা, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ-সহ একাধিক দাবিতে ওই কর্মসূচি হয়। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়। অভিযোগ, মিছিল শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই গভীর রাতে সিপিএমের ওই কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করে বলে দাবি সিপিএমের। নষ্ট করা হয়েছে বিভিন্ন নথিপত্র ও ছবি। এমনকি কার্যালয়ের ইটের দেওয়ালও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। রাতের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে সিপিএমের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানান। পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। তবে কারা এই হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা স্পষ্ট নয়। কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। 

সিপিআইএমের কোচবিহার জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোকসেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এই হামলার পিছনে বিজেপি কর্মীদের হাত রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচির পরেই পরিকল্পিত ভাবে দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও সিপিএমের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য রাজীব সরকার দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। 

এই ঘটনা প্রথম নয়। এরআগে বিরাটি, দত্তপুকুরেও সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। বিরাটির বণিক মোড়ে বামেদের ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই সভা শুরুর আগেই মঞ্চ নয়, ভাঙা হয় চেয়ার, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার। এমনকি গান্ধীজির ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়।  এই ঘটনাও অভিযোগের তীর ছিল বিজেপির দিকে। শুধু তাই নয় দত্তপুকুরেও  রাতের অন্ধকারে সিপিএমের একাধিক পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।  হামলার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। এবার একাই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল কোচবিহারে।