পুজোর মরসুমে সোনার গয়না কেনার পরিকল্পনা রয়েছে? তাহলে স্বস্তির খবর। উৎসবের আবহে কলকাতায় ফের কমল সোনার দাম (Gold Price)। ২ অক্টোবরের তুলনায় ৩ অক্টোবর ২০২৬-এ ২২ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং ফাইন গোল্ড—তিন ধরনের সোনার দামই নিম্নমুখী। ফলে পুজোর আগে সোনা কিনতে ইচ্ছুক মধ্যবিত্তের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে। শুধু তাই নয়, বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম আরও কমতে পারে।
আরও পড়ুন: মহানায়ক একজনই: উত্তমকুমাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে মুখ্যমন্ত্রী
৩ অক্টোবর কলকাতায় ফাইন গোল্ড (৯৯৫)-এর দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রামে ১৪,৭০৪ টাকা। আগের দিন, অর্থাৎ ২ অক্টোবর, এই দাম ছিল ১৪,৮৪৫ টাকা। অর্থাৎ মাত্র একদিনে প্রতি গ্রামে দাম কমেছে ১৪১ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার দামও কমেছে। শনিবার প্রতি গ্রামের দর হয়েছে ১৩,৯৭০ টাকা। শুক্রবার এই দাম ছিল ১৪,১০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ১৩০ টাকা কমেছে। সেই হিসাবে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা। তবে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি করলে প্রতি গ্রামের দর মিলছে ১৩,৩৮০ টাকা। ২ অক্টোবর এই দর ছিল ১৩,৫০৮ টাকা। অর্থাৎ বিক্রির ক্ষেত্রেও প্রতি গ্রামে ১২৮ টাকা কমেছে। ১৮ ক্যারেট সোনার দামও শনিবার নিম্নমুখী হয়েছে। ৩ অক্টোবর প্রতি গ্রামের দর ১১,৪৭০ টাকা। আগের দিন এই দাম ছিল ১১,৫৮০ টাকা। অর্থাৎ একদিনে প্রতি গ্রামে ১১০ টাকা কমেছে।
অন্যদিকে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বর্তমানে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ২৯০ টাকা। ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৬০ টাকা। রুপোর ক্ষেত্রেও রয়েছে চড়া দর। প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা। তবে শুধু বর্তমান দর নয়, ভবিষ্যতে সোনার দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও বাজারে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার পূর্বাভাস ছিল, ২০২৬ সালের শেষ এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ২ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন মহলে এখন আরও কিছুটা দাম কমার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। সেইসঙ্গে এদিন রুপোর দাম (Silver Price) প্রতি কিলোতে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীপাবলি ও ধনতেরাসের সময় ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার আশপাশে থাকতে পারে। এমনকি চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে দাম প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকায় নেমে আসার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। তবে এগুলি পূর্বাভাস মাত্র আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলালে সোনার দামও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সোনার দামের ওঠানামার পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করে। মার্কিন ডলারের শক্তি, মার্কিন বন্ডের মুনাফার হার এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সবকিছুরই প্রভাব পড়ে হলুদ ধাতুর বাজারে। সাধারণত ডলার ও বন্ডের মুনাফার হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ বা অন্যান্য সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তার প্রভাব পড়ে সোনার চাহিদায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তন, মুদ্রাবাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিও নজরে রাখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তাই পুজোর আগে সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে শুধু এক দিনের দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাজারের গতিপ্রকৃতি, গয়নার মজুরি, কর এবং বিক্রেতার নির্ধারিত দামও বিবেচনা করা জরুরি।















