নন্দীগ্রামের (Nandigram) সংখ্যালঘুদের বিজেপির (BJP) সঙ্গে বন্ধুত্বের আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উপনির্বাচনে বিরোধীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বিজেপি এগোচ্ছে। শুক্রবার বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের (Hasi Rani Rath) সমর্থনে প্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে ‘বন্ধুত্বের’ হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আমার ভদ্রাসন নন্দীগ্রাম। দল, মত, ধর্মের বিভাজন ভুলে একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিন।"
আরও পড়ুন: নির্দেশ ছাড়াই দোকান উচ্ছেদ! রাজ্যকে ভর্ৎসনা আদালতের
শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও নন্দীগ্রামের উপর তাঁর নজর সবসময় রয়েছে। জল থেকে রাস্তা, আবাস যোজনা থেকে জব কার্ড, সব পরিষেবা দ্রুত মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। নন্দীগ্রামবাসীকে কোনও কিছুর জন্য চাইতে হবে না, চাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এদিনের সভা থেকে নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার কথাও আলাদা করে তুলে ধরেন শুভেন্দু। সাতাঙ্গাবাড়ি, সুবদি, কমলপুর, ভেটুরিয়ার মতো এলাকায় বিজেপির ভোট তুলনামূলক কম। সেখানকার মানুষকে বিভাজন ভুলে বিজেপির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর আবেদন জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘সরকার সকলের উন্নয়নে কাজ করবে। তাই উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে আমাদের হাত শক্ত করুন।’’
আরও পড়ুন: নির্দেশ ছাড়াই দোকান উচ্ছেদ! রাজ্যকে ভর্ৎসনা আদালতের
পাশাপাশি, নিজের আপ্তসহায়ক প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের হত্যার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে, প্রায় শেষের দিকে। চন্দ্রনাথের হত্যার রাজনৈতিক জবাব দিতে তাঁর মা তথা বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
নন্দীগ্রামের পড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিল নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। কলকাতা ও হাওড়ার পর নন্দীগ্রামের পড়ুয়াদের জন্য ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলেও নন্দীগ্রামের মাটি থেকে আশ্বাস দেন শুভেন্দু। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও জব কার্ডের মাধ্যমে নন্দীগ্রামের সমস্ত অঞ্চলে কাজ দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দেন তিনি। সেই অনুযায়ী পঞ্চায়েতগুলিকে কাজ করার নির্দেশও দেন।
নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আগের মতোই থাকবে বলেও এদিন স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘অতীতে যেভাবে, যেখানে আসতাম, এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে একই নিয়মে নন্দীগ্রামের সব জায়গায় যাব।’’ দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীতে নন্দীগ্রামে এসে পুজোর উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।















