ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ বাড়ানো, নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ তৈরি করা এবং লেখার দক্ষতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের লোকভবন (State's Lok Bhavan)। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে প্রথমবার রাজ্যস্তরের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে। তবে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা পড়ুয়ারাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ফুল বদলে এবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী কোয়েল

শুধু অংশগ্রহণ নয় প্রথম তিন বিজয়ীদের জন্য থাকছে বিশেষ পুরস্কারও। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য প্রবন্ধের বিষয় ‘১৯৪৬ সালের কলকাতা গণহত্যাযজ্ঞ: কারণ ও ফলাফলসমূহ’। এবং অন্যদিকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিষয় ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস- ভারতের চিরায়ত সভ্যতার ভিত্তির উপর এক মারাত্মক আক্রমণ’। স্কুল বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী পাবেন যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৩৫ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে প্রথম পুরস্কার ১ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় ৭৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা। একজন পড়ুয়া শুধু একটি প্রবন্ধই জমা দিতে পারবেন। বাংলা অথবা ইংরেজি যে কোনও একটি ভাষায় লেখা জমা দেওয়া যাবে।

পুরষ্কার ছাড়াও বিবৃতিতে কিছু নিয়মাবলীর কোথাও উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। প্রবন্ধ হাতে লিখে অথবা টাইপ যেকোনো একটা উপায়ে জমা দেওয়া যাবে। তবে প্রতিটি পাতায় নম্বর দিতে হবে এবং পাতার শুধু এক পাশেই লিখতে হবে। প্রবন্ধের একটি স্বাক্ষর করা কপিও জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে আলাদা একটি কাগজে দিতে হবে প্রতিযোগীর নাম, বাড়ির ঠিকানা, শ্রেণি বা বিষয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, ই-মেল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর। স্কুলের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোন নম্বরও দিতে হবে। তবে প্রবন্ধের ভিতরে প্রতিযোগীর নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম বা এমন কোনও তথ্য লেখা যাবে না, যা দেখে লেখকের পরিচয় জানা যায়। 

প্রতিটি প্রবন্ধের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট স্ব-ঘোষণাপত্রও দিতে হবে। সেখানে প্রতিযোগীকে স্বাক্ষর করে জানাতে হবে যে প্রবন্ধটি তাঁর নিজের লেখা এবং নিজে থেকেই তৈরি করা হয়েছে। লেখায় ব্যবহৃত তথ্য, উদ্ধৃতি বা অন্য কোনও সূত্র থাকলে তার যথাযথ উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে জানাতে হবে, প্রবন্ধ লেখার সময় কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই টুল ব্যবহার করা হয়নি। অন্যের লেখা বা তথ্য সূত্রের উল্লেখ ছাড়া কপি করা এবং এআই ব্যবহার সবই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙা হলে সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ বাতিল করা হতে পারে।

প্রবন্ধের বিচার হবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর। কতটা ভালোভাবে গবেষণা করা হয়েছে, তথ্য ঠিক আছে কি না, বিষয় নিয়ে নিজের চিন্তা কতটা স্পষ্ট, বিশ্লেষণ কতটা গভীর, লেখার মধ্যে ধারাবাহিকতা রয়েছে কি না এবং লেখার মান সবকিছুই দেখা হবে। অর্থাৎ শুধু অনেক তথ্য লিখলেই হবে না, বিষয়টি কতটা বুঝে নিজের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিচারকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন: নতুন করে চাপের মুখে জ্ঞানেশ কুমার, ২০ বছরের পুরনো ঘুষ-কাণ্ডে ফের তদন্তের নির্দেশ

প্রবন্ধ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। ওই তারিখের মধ্যে লেখা পৌঁছতে হবে রাজ্যপালের সচিব, রাজ্যপালের সচিবালয়, লোক ভবন, কলকাতা–৭০০ ০৬২ ঠিকানায়। লেখা শুধুমাত্র ডাক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো যাবে, সরাসরি গিয়ে জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। খামের উপর লিখতে হবে ‘স্টেট-লেভেল এসেই কম্পিটিশন ২০২৬’। পাশাপাশি কোন বিভাগ স্কুল নাকি কলেজ-ইউনিভার্সিটি এবং কোন ভাষায় বাংলা নাকি ইংরেজি, সেটিও উল্লেখ করতে হবে। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের ২৬ জানুয়ারি ২০২৭ লোক ভবনের ‘অ্যাট হোম’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হবে। প্রতিযোগিতার সম্পূর্ণ নিয়ম ও বিস্তারিত তথ্য লোক ভবন, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।