অনিয়মের অভিযোগে গত বছরই বন্ধের নোটিশ দিয়েছিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। পুলিশের হস্তক্ষেপে সিলও হয়েছিল। অথচ সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিঃশব্দে ফের চালু হয়ে যাওয়া জামালপুরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমেই এ বার চিকিৎসার গাফিলতিতে সদ্যোজাতর মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। বর্ধমানের নবাবহাটে ভুয়ো চিকিৎসকের হাতে শিশু মৃত্যুর রেশ কাটার আগেই কাড়ালাঘাটের ‘লাইফ কেয়ার নার্সিংহোম’-এর এই ঘটনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নজরদারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর এই নার্সিংহোমটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কাজ চালু রাখায় ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে নার্সিংহোমটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গত এপ্রিল মাস থেকেই ফের তালা খুলে রমরমিয়ে ব্যবসা শুরু করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
সেই বন্ধের নির্দেশ পাওয়া নার্সিংহোমেই চিকিৎসার গাফিলতিতে সন্তান হারিয়েছেন হুগলির ধনিয়াখালির নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা তাপস রায়। তিনি জানান, স্ত্রী শ্রাবন্তী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসক কামাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। চিকিৎসকের কথামতোই গত ১ অক্টোবর জামালপুরের ওই নার্সিংহোমে স্ত্রীকে ভর্তি করানো হয়। তাপস রায়ের অভিযোগ, ভর্তির পর থেকে রোগীদের প্রতি চরম অবহেলা দেখানো হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) নেওয়ার পর হঠাৎ চিকিৎসক বেরিয়ে এসে জানান, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া পাওয়া যাচ্ছে না এবং দ্রুত সিজার করতে হবে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরেই জানানো হয় শিশুটি মারা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, ওটিতে নেওয়ার আগমুহূর্তেও বলা হয়েছিল সবকিছু ঠিক রয়েছে।
শনিবার এই ঘটনা জানাজানি হতেই নার্সিংহোম চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ পরিবার জামালপুর থানা ও স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। খবর পেয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রমের নির্দেশে জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক শঙ্খশুভ্র দাস এবং জামালপুর থানার ওসি পঙ্কজ নস্কর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। প্রসূতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। এদিকে নার্সিংহোমের মালিক মহম্মদ কাজি আজিজ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক কামাল হোসেনের দাবি, পেটের ভিতরেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল, যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বর্ধমানের নবাবহাটে লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর জানতে পারে অস্ত্রোপচারকারী আদৌ চিকিৎসকই ছিলেন না। সেই ঘটনার ক্ষত তাজা থাকতেই প্রশাসনের বন্ধের নির্দেশ অমান্য করা এই নার্সিংহোমে সদ্যোজাতর মৃত্যুতে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার সিল করার পরেও কীভাবে স্বাস্থ্য দফতরের নাকের ডগায় এমন বেআইনি কারবার চলছে?















