যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ (Jantar Mantar Protest) ঘিরে দিল্লিতে (Delhi) এবার নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত। নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyansesh Kumar) বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের (Delhi Police) সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের অভিযোগের মধ্যেই সামনে এল এক মহিলা সাংবাদিকের (Journalist) সঙ্গে পুলিশি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। আর সেই ঘটনাকে হাতিয়ার করে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানা করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
আরও পড়ুন: মোদি- স্মিতকে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার ঘোষণা! চিকিৎসাধীন মচ্ছারের সঙ্গে কথা নেতানিয়াহুর
অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিক দুর্ব্যবহার করেন। তাঁকে অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগও উঠেছে। এরপর FIR দায়েরের দাবি ওঠে কিন্তু পুলিশ সেই FIR নিতে গড়িমসি করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরেই সাংবাদিকদের একাংশ অবস্থান শুরু করেন।
বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন—দিল্লি পুলিশ যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকে, তাহলে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগে অমিত শাহের জবাবদিহি কোথায়? রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শুধু মহিলা সাংবাদিক নন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া, তাঁদের টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করার বদলে পুলিশ যদি প্রতিবাদ দমনেই বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এই সংঘাতের কেন্দ্রে অবশ্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন। ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR-কে কেন্দ্র করে একের পর এক প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের একাংশ।
৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ২০০ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তার আগের দিনও বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা, ব্যারিকেড এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আর এখানেই বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন—নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেই কি প্রতিবাদের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে?
এদিকে, CJP-র তরফে ACP বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ওই মহিলা সাংবাদিক FIR দায়ের করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। AISA-ও মহিলা বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। একদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, অন্যদিকে SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্ন, তার উপর যন্তর মন্তরে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ—সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে ফের সামনে ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ’-এর বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রতিবাদ দমন, নাকি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত? জবাব দিতে হবে দিল্লি পুলিশকেই, আর রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্নে নিশানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।















