আমলারা বিজেপির (BJP) হয়ে কাজ করলে পদোন্নতি আবার অবসর নিলে নির্বাচনের টিকিট। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ শানিয়ে এমনটাই কটাক্ষ ছোড়ে বিরোধীরা। সম্প্রতি তৃণমূল (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee) বিষয়টি নিয়ে সুর চড়ান। আর ঠিক তারপরেই আবারও প্রকাশ্যে এল একই ঘটনা। কিছুটা ঘুরিয়ে হলেও বিজেপির হাত শক্ত করতে ময়দানে নামলেন প্রাক্তন আমলা। প্রাক্তন সিবিআই (CBI) প্রধান নাগেশ্বর রাও (M Nageshwar Rao) এবার রাজনীতিতে। সর্বজন সনাতন পার্টি (Sarvajan Sanatan Party) নামের এক সর্বভারতীয় দলের সভাপতি পদে যোগ দিলেন তিনি। তাঁর দাবি, এতদিন ধরে দেশসেবার অভিজ্ঞতাকে এবার রাজনীতির ময়দানে কাজে লাগাতে চান।
আরও পড়ুন: ‘বিগ বস বাংলা’র দুর্গে বড় ধামাকা! রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় মুখোমুখি সৌরভ-প্রসেনজিৎ
শনিবার বারাণসীতে নতুন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন নাগেশ্বর রাও। সর্বজন সনাতন পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানান, প্রশাসনে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাঁকে রাজনীতিতে আসার বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ শুধু প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতির মাধ্যমেও বৃহত্তর পরিসরে সেই কাজ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: চোটের জের, আজ পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে অনিশ্চিত জেমি
নতুন দলের নামের সঙ্গে ‘সনাতন’ শব্দটি থাকলেও তাঁদের রাজনীতি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় বলেই দাবি করেছেন রাও। তাঁর কথায়, সনাতনকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় বা ভোটের রাজনীতির সঙ্গে দেখলে বিষয়টির ব্যাপ্তি ছোট করে দেখা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, প্রশাসন এবং সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রেও এর মূল্যবোধকে কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।
রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ অবশ্য একেবারে অচেনা কোনও মুখকে ঘিরে নয়। নাগেশ্বর রাওয়ের নাম দেশের প্রশাসনিক মহলে বেশ পরিচিত। বিশেষ করে ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সময় জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছিল তাঁর নাম। তৎকালীন সিবিআই ডিরেক্টর আলোক ভার্মা এবং বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্তানার মধ্যে তীব্র বিরোধের জেরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দু’জনকেই সরিয়ে দেয় কেন্দ্র।
সেই অস্থির পরিস্থিতিতে সিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিরেক্টর পদে থাকা নাগেশ্বর রাওকে অন্তর্বর্তী ডিরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দু’দফায় তিনি এই দায়িত্ব সামলান। তবে সিবিআইয়ের শীর্ষপদে তাঁর কার্যকালও বিতর্কের বাইরে ছিল না।
এক সিবিআই আধিকারিককে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। আদালত তাঁকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি, আদালতে পুরো দিন উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও তদন্তে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত নানা অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল। সারদা মামলার তদন্ত নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে এসেছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তদন্তের গতি কমানোর চেষ্টা হয়েছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও সময়ে সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এবার সেই প্রশাসনিক পরিচয় পেরিয়ে সরাসরি ভোটের রাজনীতির ময়দানে নাগেশ্বর রাও। দলের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর বার্তা, সনাতন কোনও বিভাজনের ভাবনা নয়। বরং সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের মতো বিষয়কে সামনে রেখে এগোতে চান তাঁরা।
রাওয়ের কথায়, “সনাতন শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতীক নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, শাসন, সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক জীবনে এর মূল্য রয়েছে। সকলের সমান যোগদান বাড়াতে হবে। সনাতন কারও বিরোধী নয়।”















